মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শন করে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে, ইশরাক হোসেন বিষয়টিকে ‘গুজব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারো আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এমন গুঞ্জনের মধ্যেই পদত্যাগের খবরে ‘কান না দেওয়ার’ অনুরোধ জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। রবিবার (১৮ অক্টোবর) একটি গণমাধ্যমেকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “দয়া করে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি যে, এই বিষয়টিকে আপনারা অবশ্যই গুজব হিসেবে ধরবেন, এর কোনো সত্যতা এখনো নেই। এরকম যদি কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের দল থেকে আমরা নেই, তাহলে সেটি কোনো উড়ো খবরের মাধ্যমে আসবে না, অবশ্যই সেখানে আমরা অফিসিয়ালি এরকম কোনো প্রেস কনফারেন্স যেখানে আপনারা সবাই উপস্থিত থাকবেন, সেরকম অনুষ্ঠান করেই করা হবে।”
তিনি বলেন, “যে বা যারা এই তথ্য দিয়েছে, তারা উড়ো খবরকে আপনাদের কাছে খবর হিসেবে প্রচার করছে। আমি দয়া করে সবাইকে অনুরোধ জানাবো, এই বিষয়টিকে আপনারা সতর্ক থাকবেন।”
এসময় সবাইকে একসাথে ফোন না করার অনুরোধ জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, “দয়া করে সবাই একসাথে ফোন দেবেন না, আমি তো ফোন সবারটা আমার রিসিভ করা সম্ভব নয় আসলে একটি ফোনের ভেতরে।”
অন্যদিকে, ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, “আজ ১৮ অক্টোবর ২০২৬ (রবিবার) বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব ইশরাক হোসেনের ‘পদত্যাগ’ বা ‘তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে‘ মর্মে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
“প্রকৃত সত্য এই যে, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।”
প্রতিবাদপত্রে আরো বলা হয়, “গতকাল নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেবল আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তা নিয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ইতিপূর্বেই তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।”
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেছেন, “এ বিষয়ে দল থেকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। সেরকম কিছু হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”
