বাংলাদেশ একটি অনন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, এ দেশের দীর্ঘদিনের শান্তি ও সৌহার্দ্য অটুট রাখতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়ে দেশকে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সিলেট নগরীর বিভিন্ন দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে শিববাড়ী মন্দিরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সবাইকে নিজের, দলীয় নেতাকর্মী এবং সরকারের পক্ষ থেকে উষ্ণ শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
অতীতে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নগরবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সেই স্নেহ ও সমর্থন তার রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত মূল্যবান। সিলেটের পাশাপাশি সিলেট-৪ আসনের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও সমর্থনের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে তিনি দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ এবং সমৃদ্ধির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সিলেট তথা সারা দেশে আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
পূজামণ্ডপ ও মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি সাদেক হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন। এ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, মন্দির পরিচালনা কমিটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এবং বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা এ সময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন।
