
'ক্লাইমেট উইক ইন্ডিয়া'-র অংশ হিসেবে রোটারি সদনে সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছে এই জলবায়ু শিক্ষা সম্মেলনEi Samay
Published on
:
2 min read
এই সময়: জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে স্কুলে তো পড়াশোনা করতেই হয় ছাত্রছাত্রীদের। এ বার তাদের সেই পড়াশোনাই কাজে লাগবে নিজেদের পাড়া ও ওয়ার্ডের জলবায়ু নিয়ে পরিকল্পনায়। কোন এলাকার কোথায় বেশি গরম, কোথায় জল জমে, কোথায় দূষণের সমস্যা, কী ভাবে বদলে যাচ্ছে স্থানীয় পরিবেশ — এ বার নিজেদের সেই সব অভিজ্ঞতার কথা প্রশাসনকে জানাবে স্কুলপড়ুয়ারাই।
শিশুদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে তাদের পর্যবেক্ষণকে ওয়ার্ড স্তরের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে বেঙ্গালুরুতে ইতিমধ্যে চালু হয়েছে 'ফ্রম ক্লাসরুম টু কমিউনিটি' নামে নতুন একটি মডেল। জলবায়ু শিক্ষা সম্মেলনে মডেলটি যৌথ ভাবে উপস্থাপনা করেছে যে সব সংস্থা, তারা হলো — 'আসর', 'প্রাজক' এবং 'দ্য চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট' (সিনি)। পরীক্ষামূলক ভাবে এই মডেল প্রয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কলকাতাকেও।
'ক্লাইমেট উইক ইন্ডিয়া'-র অংশ হিসেবে রোটারি সদনে সম্প্রতি আয়োজিত হয়েছে এই জলবায়ু শিক্ষা সম্মেলন। কলকাতা, আমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং দেশের আরও কয়েকটি শহরে আয়োজিত সম্মেলনেরও অঙ্গ এটি। ৫০ জন পড়ুয়া ও ২০ জন শিক্ষক কর্মশালা, থিয়েটার, প্রদর্শনী — সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে যোগ দেন। এর লক্ষ্য হলো, জলবায়ু শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যবই ও সচেতনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না–রেখে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা।
মডেলটির কেন্দ্রে রয়েছে স্কুলের ইকো ক্লাব। মনে করা হচ্ছে, স্থানীয় প্রশাসনের পরিকল্পনার সঙ্গে ইকো ক্লাবকে যুক্ত করা হলে পড়ুয়ারা নিজেদের এলাকার পরিবেশগত সমস্যা চিহ্নিত করে মতামত জানাতে পারবে। জল, তাপমাত্রা, দূষণ কিংবা বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা স্থানীয় পরিকল্পনায় জায়গা পাবে। একই সঙ্গে প্রশাসনের কাজ সম্পর্কেও ধারণা তৈরি হবে তাদের।
প্রাজকের দীপ পুরকায়স্থ বলছেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সব চেয়ে বেশি পড়ে শিশুদের উপরে। অথচ এই ব্যাপারে পরিকল্পনার সময়ে তাদের মতামত খুব কমই শোনা হয়। সমস্যা বুঝে সমাধানের কথা ভাবার এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগও তাদের দেওয়া হয় না।' তাই, এই সম্মেলনে শিশুদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পোস্টার–কর্মশালায় ছবির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন তুলে ধরেছে পড়ুয়ারা। শিক্ষকদের জন্য ছিল অংশগ্রহণমূলক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ। নাটকে উঠে আসে জলবায়ু পরিবর্তন ও শিশুদের অধিকারের সম্পর্ক। মৌমাছি, পরিবেশ ও খাদ্যব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। পরে চিত্রশিল্পী শুভেন্দু সরকার 'ওয়ার্ডটুন'-এর মাধ্যমে সেই ভাবনাকে দৃশ্যরূপ দেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব সুরজিৎ রায় বলেন, 'এই উদ্যোগ 'মিশন লাইফ'-এর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ে বাস্তব কাজের কেন্দ্র হিসেবে তুলতে পারে ইকো ক্লাবগুলিকে।'
পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তরফে অঞ্জন ফৌজদার জানান, রাজ্যের প্রায় ৬,০০০ স্কুল ইকো ক্লাবের মাধ্যমে পরিবেশ শিক্ষা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। মডেলটি সফল হলে তা প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে বৃহত্তর পরিসরে।
আয়োজকদের মতে, জলবায়ু শিক্ষা থেকে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করা, সেখান থেকে পরিকল্পনা এবং শেষ পর্যন্ত বাস্তব পদক্ষেপ করা — এই সংযোগই তৈরি করতে চাইছে 'ফ্রম ক্লাসরুম টু কমিউনিটি'। কলকাতায় মডেলটি সফল হলে অন্য শহরেও শিশুদের জলবায়ু নিয়ে পরিকল্পনার অংশ করে তোলার পথ খুলতে পারে।