ব্রেস্ট বা স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ সবসময় স্তনে শক্ত চাকা বা লাম্প হিসেবে প্রকাশ নাও পেতে পারে। আর প্রায় ১০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে ত্বকের কিছু সাধারণ পরিবর্তনের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যই উঠে এসেছে।
যদিও ব্রেস্ট বা স্তন ক্যানসারের নাম শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে স্তনের ভেতর কোনো শক্ত চাকা বা লাম্পের অস্তিত্ব। কিন্তু স্তন ক্যানসার যে সবসময় লাম্প দিয়েই শুরু হবে, এমন কোনো কথা নেই।
গবেষণা বলছে, ১০ শতাংশ স্তন ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রেই প্রাথমিক লক্ষণ টিউমার নয়; বরং ত্বকের সাধারণ কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসার ফলেও প্রায় ৯৪ শতাংশ রোগীর ত্বক, চুল আর নখে নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই অভিজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে প্রথম থেকেই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তবে হ্যাঁ, ত্বকে যে ধরনের পরিবর্তন দেখলে আপনি সতর্ক থাকবেন, তা জানা উচিত। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সাধারণত যে কোনো একটি স্তনে এ পরিবর্তনগুলো লক্ষ করা যায়—
- ত্বকের রঙ পরিবর্তন বা স্থায়ী র্যাশ
- স্তনের ত্বকে কালচে বা লালচে ছোপ পড়া, যা দীর্ঘদিনেও সারছে না।
- কমলালেবুর খোসার মতো ত্বক
- স্তনের ত্বক ফুলে যাওয়া, উষ্ম ভাব অনুভূত হওয়া কিংবা ত্বক ছোট ছোট ছিদ্রসহ কমলালেবুর খোসার মতো কুঁচকে যাওয়া।
- নিপল বা স্তনবৃন্ত ভেতরে ঢুকে যাওয়া
- নিপলের আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আসা বা স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
তবে সব ক্ষেত্রে এ পরিবর্তন ক্যানসারের লক্ষণ নাও হতে পারে। কিন্তু লক্ষণ যদি স্থায়ী হয়, সে ক্ষেত্রে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আর ত্বকের এ লক্ষণগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ‘ইনফ্লেমেটরি ব্রেস্ট ক্যানসার’-এর ক্ষেত্রে। এটি অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক আক্রমণাত্মক বা অ্যাগ্রেসিভ এক ধরনের ক্যানসার। যেমন—
ম্যামোগ্রামে ধরা না পড়া
যেহেতু আইবিসিতে কোনো শক্ত লাম্প তৈরি হয় না। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সাধারণ ম্যামোগ্রামের মাধ্যমে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
একজিমা বা ইনফেকশন ভেবে ভুল করা
চিকিৎসকরা একে অনেক সময় সাধারণ স্তনের ইনফেকশন বা একজিমা ভেবে ভুল করে করে থাকেন। অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও যদি র্যাশ বা ফোলা ভাব না কমে, তখন ‘পাঞ্চ বায়োপসি’র মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়।
রেডিয়েশন থেরাপি ও ত্বকের জ্বালা
রেডিয়েশনের ফলে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে। দেখলে অনেক সময় মনে হয় যেন সানবার্ন হয়েছে। চুলকানি ও ফোসকা পড়তে পারে। এ সময়ে গন্ধহীন মাইল্ড ময়েশ্চারাইজার ও সুতির পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুল পড়ে যাওয়া ও মানসিক চাপ
ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালে প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীর বড় একটি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় চুল ঝরেপড়া। কেমোথেরাপির সময় ‘স্ক্যাল্প কুলিং’ প্রযুক্তির ক্যাপ ব্যবহার করলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো যায়।
ভ্রু ও পাপড়ির যত্ন
কেমোর প্রভাবে ভ্রু ও পাপড়িও পাতলা হয়ে যেতে পারে। তবে চিকিৎসা শেষে মাইনক্সিডিল বা বিশেষ থেরাপির সাহায্যে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।