আজ নিউরাল টিউব ডিফেক্ট দিবস। গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড তৈরি হয় নিউরাল টিউব থেকে। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এটি যথাযথভাবে তৈরি না হলে নিউরাল টিউব ডিফেক্ট হয়। এতে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের নানা ধরনের জন্মগত জটিলতা হতে পারে। নিউরাল টিউব ডিফেক্ট একটি প্রতিরোধযোগ্য কিন্তু অত্যন্ত জটিল সমস্যা। এটি হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে—
● মায়ের ফলিক অ্যাসিড বা ভিটামিন বি নাইনের ঘাটতি ● পরিবেশগত দূষণ
● জেনেটিক কারণ
কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়
নিউরাল টিউব ডিফেক্ট ৭০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য। এ জন্য ৪টি মূল স্তম্ভ আছে।
গর্ভপূর্ব যত্ন: গর্ভধারণের কমপক্ষে তিন মাস আগে থেকে মায়ের পুষ্টির প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।
ফলিক অ্যাসিড: সারা বছর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রাইমারি কেয়ার সেন্টারে বিনা মূল্যে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়। গর্ভধারণের তিন মাস আগে থেকে এটি নিয়মিত সেবন করতে হবে।
খাদ্য ফর্টিফিকেশন: আটা, ময়দাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যে ফলিক অ্যাসিডের মিশ্রণ বাধ্যতামূলক করা দরকার।
পারিবারিক ও সামাজিক পুষ্টি সচেতনতা: ঘরে ঘরে শাকসবজি ও ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
চিকিৎসা
এনেনকেফালি বা অসম্পূর্ণ মস্তিষ্ক হলে শিশু বাঁচে না। স্পাইন বিফিডা বা দ্বিখণ্ডিত মেরুদণ্ড, মেনিনগোসিল, এনকেফালোসিল ইত্যাদি জন্মের পর অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা যায়।
সময়মতো অপারেশন না হলে আক্রান্ত শিশুদের শরীরে নানাবিধ জটিলতা দেখা দেয়:
● হাইড্রোসেফালাস: ৭০ শতাংশ রোগীর মাথায় পানি জমে যায়।
● কিডনি জটিলতা: ৮৫ শতাংশ রোগীর প্রস্রাবে ইনফেকশন, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া এবং হাইড্রোনেফ্রোসিস বা হাইড্রোইউরেটারের মাধ্যমে কিডনি অকার্যকর হতে পারে।
● পায়ের বিকৃতি: ৬০ শতাংশ রোগীর পা বাঁকা হতে পারে।
● চিয়ারি ম্যালফরমেশন: ২৫ শতাংশ রোগীর ব্রেন স্টেম নিচে নেমে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
ডা. সুদিপ্ত কুমার মূখার্জী, সহযোগী অধ্যাপক, পেডিয়াট্রিক নিউরোসার্জারী, ন্যাশানাল ইন্সটিটিউট অবস নিউরোসায়েন্স এন্ড হাসপাতাল, ঢাকা
