Published on
:
2 min read
পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার দিনকয়েক আগে থেকেই স্তনে ভারী ভাব, অস্বস্তি বা ব্যথার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এমন অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত হলেও, মনে একটা প্রচ্ছন্ন ভয় বা সংশয় থেকেই যায়। এটি কি স্রেফ হরমোনের পরিবর্তন, নাকি মারাত্মক কোনও রোগ বা স্তন ক্যান্সারের আগাম সতর্কবার্তা? পিরিয়ডের আগে এই ধরনের ব্যথা কতটা স্বাভাবিক এবং কখন অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, তা খোলসা করেছেন চিকিৎসকরা।
পিরিয়ডের আগে স্তনে ব্যথা কেন হয়?
পিরিয়ডের ঠিক আগে স্তনে ব্যথা বা স্পর্শকাতরতা একেবারেই স্বাভাবিক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সাইক্লিক মাস্টালজিয়া’। মাসিক চক্রের ডিম্বস্ফোটন বা অভুলেশনের পরে শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই হরমোনের পরিবর্তনের ফলে স্তনের গ্ল্যান্ড এবং মিল্ক ডাক্টগুলো ফুলে ওঠে ও জল ধারণ করে। এর ফলে উভয় স্তনেই ভারী ভাব, ফোলা ভাব এবং হালকা ব্যথা অনুভূত হয়। পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলে বা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যথা ধীরে ধীরে কমে যায়।
কখন সতর্কতা প্রয়োজন?
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধুমাত্র স্তনে ব্যথা কিন্তু কখনই স্তন ক্যান্সারের প্রথম বা প্রধান লক্ষণ হতে পারে না। তবে পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যদি স্তনের নির্দিষ্ট কোনও স্থানে একটানা ব্যথা বা মাসিক চক্রের বাইরেও অস্বস্তি হতে থাকে, তবে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
কী কী দেখলে সতর্ক হবেন?
স্তনে নতুন কোনও শক্ত লাম্প বা চামড়া পুরু হচ্ছে কি না।
আন্ডারআর্মে ফোলা ভাব বা নোড রয়েছে কি না।
স্তনের চামড়ায় লালচে ভাব, গর্ত হয়ে যাওয়া বা কমলালেবুর খোসার মতো গঠন দেখা দেওয়া।
স্তনবৃন্ত বা নিপল ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
নিপল থেকে রক্ত বা অস্বচ্ছ কোনও তরল নিঃসরণ হওয়া।
স্তনের নির্দিষ্ট কোনও একটি স্থানে একটানা ব্যথা হওয়া।
পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও স্তনে অস্বস্তি থাকা।
কী ভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
যদি কোনও অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তবে চিকিৎসকরা ‘ট্রিপল অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতির মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় করে থাকেন।
শারীরিক পরীক্ষা: অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা স্তন পরীক্ষা।
ইমেজিং টেস্ট: বয়স অনুযায়ী ম্যামোগ্রাফি এবং আল্ট্রাসাউন্ড।
বায়োপসি: সন্দেহজনক কোনও লাম্প বা টিউমার পাওয়া গেলে ‘কোর নিডল বায়োপসি’ করা।