রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পরও মাঝেমধ্যে শরীর অসুস্থ বা ভারী লাগতে পারে। তবে দিনের পর দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্তি অনুভব করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
রাতে বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইলে রিলস দেখা কিংবা গেম খেলার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। রাত জেগে এভাবে রিলস, ছোট ভিডিও বা গেমে সময় কাটালে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ফোনের উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে এবং ঘুম আসতে বাধা দেয়। ফলে আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ঘুমের মান ভালো না হলে সকালে ক্লান্ত লাগতে পারে।
সকালের নাশতা বাদ দেওয়া কিংবা দুপুরে দেরিতে খাবার খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে। এতে ক্লান্তি ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। মিষ্টি খাবার বা হালকা নাশতা সাময়িকভাবে শক্তি জোগালেও পরে সেই শক্তি কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাবার শরীরে শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কম পানি পান করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে অলসতা, ঘুম ঘুম ভাব ও মনোযোগের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাজ করার সময় অনেকেই পানি পান করার কথা ভুলে যান। পানির ঘাটতি পূরণে সাধারণ পানির পাশাপাশি লেবুপানি, ডাবের পানি বা ঘোল পান করা যেতে পারে।
সারাদিন একটানা চেয়ারে বসে কাজ করাও ক্লান্তির কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় শরীর স্থির থাকলে রক্ত চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে এবং পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতি ঘণ্টায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা হেঁটে নেওয়া জরুরি।
চা বা কফি সাময়িকভাবে সতেজতা বাড়ালেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ করলে রাতে ঘুমাতে সমস্যা হতে পারে। এর প্রভাব পরদিনও ক্লান্তি হিসেবে দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যাফেইনমুক্ত হারবাল চা পান করা যেতে পারে।
এসব অভ্যাস পরিবর্তনের পরও যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ক্লান্তি না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শরীরে আয়রন, ভিটামিন ডি বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি কিংবা থাইরয়েডের সমস্যার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
এমএমটি
