Published on
:
2 min read
অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয় রোগ শুনলেই আমাদের চোখে সাধারণত ভেসে ওঠে প্রবীণ মানুষের ছবি। বেশির ভাগ মানুষেরই ধারণা শিশুদের হাড়ে এই ধরনের কোনও সমস্যা হতে পারে না। তবে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা একেবারেই ভ্রান্ত। বয়স্কদের পাশাপাশি ছোটদের মধ্যেও অস্টিয়োপোরোসিস বা হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশুদের অস্টিয়োপোরোসিস খুব সাধারণ রোগ না হলেও, মূলত কোনও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, পুষ্টির অভাব, হাঁটাচলা কম হওয়া বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে এই রোগ দেখা দিতে পারে।
অস্টিয়োপোরোসিস শুধুমাত্র বয়স্কদেরই হয়
সত্যি: শিশুরা বংশগত বা জন্মগত হাড়ের সমস্যার কারণে যেমন এতে আক্রান্ত হতে পারে, তেমনই অন্য কোনও ক্রনিক রোগ, দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকা বা টানা কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও এই সমস্যায় পড়তে পারে। প্রাথমিক অবস্থাতে কারণ চিহ্নিত করা গেলে এর সঠিক চিকিৎসা সম্ভব।
ঘন ঘন হাত-পা ভাঙলে বুঝতে হবে হাড় দুর্বল
সত্যি: খেলাধুলো বা দৌড়দৌড়ি করার সময় পড়ে গিয়ে হাত-পা ভাঙাটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫০ শতাংশ শিশু বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছনোর আগেই কোনও না কোনও সময়ে হাড় ভাঙার মুখোমুখি হয়। বড় কোনও চোট পেয়ে একবার হাড় ভাঙা মানেই শিশুর হাড় দুর্বল, এমনটা ভেবে নেওয়া ভুল।
শিশুদের হাড়ে কোনও সমস্যা হতে পারে না
সত্যি: হাড়ের জোর কমে গেলে প্রাথমিক অবস্থায় কোনও লক্ষণ প্রকাশ না-ও পেতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত না হাড় ভাঙছে বা হাড়ে মারাত্মক যন্ত্রণা শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ তা সহজে বোঝা যায় না। ১০ বছর বয়সের আগে যদি কোনও শিশুর ২ বা তার বেশি বার হাড় ভেঙে যায় বা মেরুদণ্ডের হাড়ে কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত।
ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্ট অস্টিয়োপোরোসিস আটকে দিতে পারে
সত্যি: হাড়ের গঠনে ক্যালশিয়াম নিঃসন্দেহে জরুরি, কিন্তু শক্তিশালী হাড় গড়ে তুলতে ক্যালশিয়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি, সুষম আহার এবং নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম বা শরীরচর্চাও সমান ভাবে প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের যথেচ্ছ ক্যালশিয়ামের ওষুধ খাওয়ানো অনুচিত।
প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের হাড়ের ঘনত্ব একই ভাবে মাপা হয়
সত্যি: শিশুদের হাড় প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পায়। তাই শিশুদের বোন ডেনসিটি টেস্টের রিপোর্ট বিশ্লেষণের পদ্ধতি বড়দের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। এটি শিশুর বয়স, হাড়ের বৃদ্ধি এবং শরীরের গঠনের উপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা বিশেষ ইমেজিং টেস্টের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।