সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। দুই দফায় মারধরের পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিনগত মধ্যরাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে সন্ধ্যায় উপজেলার কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় গণপিটুনির শিকার হন শামীম।
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) দেবহাটা উপজেলার বড়শান্তা গ্রামের মৃত শামসুর রহমানের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আল্লাহ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), পবিত্র কোরআন ও সাহাবিদের নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে শামীমের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার কিছু কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন ব্যক্তি শামীমের বাড়িতে যান। এ সময় তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে তার ভাইয়েরা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়া এলাকায় সবুর ডাক্তার নামের এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান। সেখানে ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ওই চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানেও উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে পুলিশ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
দেবহাটা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইব্রাহিম বলেন, মরদেহ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়া পথে মারা যান তিনি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন শামীম মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতেন। তার চিকিৎসা চলছিল।
শামীমের ছোট ভাই সাগর হোসেন জানান, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে।
সাগর বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কখনো স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। তার চিকিৎসা চলছিল। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে তাকে মেরে ফেলা হলো কেন? আমরা কিছুই করতে পারিনি। সামনে এগোলে আমাদেরও মারধর করা হতো।’
