- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কোথাও একটির পর একটি ডায়মন্ড বসিয়ে প্রতিমার সাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কোথাও আবার পরিত্যক্ত লোহার টুকরো জুড়ে দেবীর বিশাল অবয়ব গড়া হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে দীর্ঘ প্রস্তুতি, নিখুঁত হাতের কাজ আর নিজস্ব শিল্পভাবনা। আর সেই কঠিন কাজটিই করছেন হাবড়ার শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার। তিনি এবার তৈরি করছেন তিন ধরনের দুর্গাপ্রতিমা। একটিতে প্রায় এক কোটি আমেরিকান ডায়মন্ডের ব্যবহার হয়েছে। অন্যটিতে ১৬ কুইন্টাল পরিত্যক্ত লোহা। তৃতীয়টিতে ফাইবারের উপর চিত্রকলার প্রয়োগ।
ডায়মন্ডের প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে আগস্টে। সোদপুরের একটি ক্লাবে দুর্গা প্রতিমার পাশাপাশি লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিকের মূর্তিও সাজানো হচ্ছে আমেরিকান ডায়মন্ডে। সব মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় এক কোটি পাথর। প্রতিমার গায়ে এত বিপুল সংখ্যক ডায়মন্ড বসানো মুখের কথা নয়। কোথায় কোন পাথর বসবে, কীভাবে বিন্যাস থাকবে, আলোর প্রতিফলনে প্রতিমার রূপ কীভাবে ফুটে উঠবে– প্রতিটি ক্ষেত্রেই সূক্ষ্ম পরিকল্পনা নিয়েছেন শিল্পী।
এদিকে, ডায়মন্ডের সূক্ষ্ম কাজের ঠিক বিপরীত মেরুতে রয়েছে ইন্দ্রজিতের লোহার দুর্গা। নদীয়ার পলাশীপাড়ার একটি পুজোর জন্য তৈরি এই প্রতিমার উচ্চতা ১০ ফুট, চওড়া ১২ ফুট। ওজন প্রায় ১৬ কুইন্টাল। জুন মাসে শুরু হয়েছিল কাজ। বিভিন্ন পরিত্যক্ত লোহার সামগ্রীকে বেছে নিয়ে, সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করতে হয়েছে দেবীর বিশাল অবয়ব। যে সামগ্রী একসময় বাতিল বলে পড়েছিল, তাকে নতুন রূপ দিতে শিল্পীকে নির্ভর করতে হয়েছে পরিকল্পনা ও কারিগরি দক্ষতার উপর।
এছাড়া বরানগরের একটি পুজো কমিটির জন্য অন্য ধরনের কাজ করেছেন শিল্পী। ফাইবারের গায়ে ছবি এঁকে ও বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমার চূড়ান্ত রূপ। এই পদ্ধতিতে প্রতিমা গড়ার পাশাপাশি ছবির কাজেও সমান মনোযোগ দিতে হয়। এনিয়ে শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পোদ্দার বলেন, প্রথমে মাটি দিয়ে তৈরি হয়েছে মূল অবয়ব। তার উপর করা হয়েছে ফাইবার কাস্টিং। পরে বিভিন্ন সামগ্রী ব্যবহার করতে হয়েছে। নিজস্ব চিত্র
