শিক্ষক, অনুবাদক, লেখক ও বি–ঔপনিবেশিক চিন্তক কাজী মসিউর রহমানের (১৯৮৪–২০২১) অনূদিত ‘সুখের অর্থনীতি’ বই নিয়ে পাঠের আসর করেছে গোবিপ্রবি বন্ধুসভা। সম্প্রতি এক গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ আসর বসে।
বইয়ের পাতা থেকে উঠে আসা অর্থনীতি, বিশ্বায়ন, স্থানীয় জ্ঞান ও মানুষের জীবনযাপন নিয়ে আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে সাহিত্যের এই আড্ডা। ‘সুখের অর্থনীতি’ বইটি প্রচলিত অর্থনৈতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে বিশ্বায়ন ও স্থানীয়করণের সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে শেখায়। বিশ্বায়নের বিস্তারের সঙ্গে বাজার, কৃষি, খাদ্য ও শিক্ষায় বড় প্রতিষ্ঠানের প্রভাব যেমন বেড়েছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জ্ঞান ও ঐতিহ্যও হারিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে বইটি সামনে আনে ‘স্থানীয়করণ’-এর ভাবনা; যেখানে স্থানীয় মানুষ, প্রকৃতি, কৃষি ও নিজস্ব জ্ঞানের গুরুত্ব রয়েছে।
চায়ের আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে পাঠচক্রে বইটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। বইয়ের বিষয়বস্তুর সঙ্গে নিজেদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে বিশ্বায়ন, কৃষি, প্রকৃতি ও স্থানীয় জ্ঞানের গুরুত্ব নিয়ে মতামত তুলে ধরেন তাঁরা। বই পড়ার পাশাপাশি এমন মুক্ত আলোচনায় পাঠ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দময়।
সভাপতি আহনাফ শাহরিয়ার বলেন, ‘পাঠচক্র বই পড়ার অভ্যাসের পাশাপাশি নতুনভাবে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করে। একটি বইকে ঘিরে সবার ভাবনা শুনলে নিজের উপলব্ধিও আরও সমৃদ্ধ হয়।’
সাধারণ সম্পাদক আল-আমীন শেখ বলেন, ‘পাঠচক্রের মাধ্যমে বইয়ের বিষয়গুলো নিয়ে মুক্তভাবে আলোচনা করা যায়। এতে বই পড়ার আনন্দের পাশাপাশি নিজেদের চিন্তা ও মত প্রকাশের সুযোগও তৈরি হয়।’
পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, গোবিপ্রবি বন্ধুসভা
