সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন তার সরকারের সাবেক ১২ উপদেষ্টা। মঙ্গলবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এ ঘটনার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে অপপ্রচার, অনলাইন হয়রানি ও হুমকি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজনের স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে উদ্দেশ করে কয়েকজনকে উচ্চ স্বরে কথা বলতে ও বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটির পর দেওয়া বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, অধ্যাপক ইউনূসকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং পরিকল্পিতভাবে আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক। তাঁরা এসব কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন সাবেক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সি আর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিবৃতিতে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনিয়ম, দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো সংকটের মধ্যে দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছিল অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। তাদের দাবি, ওই সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
সাবেক উপদেষ্টারা আরও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের প্রত্যাশা ছিল, এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, বিগত শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি নিয়মিতভাবে অধ্যাপক ইউনূসকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক প্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন সাবেক উপদেষ্টারা।
তারা বলেন, ভয়ভীতি, অপপ্রচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিবর্তনের প্রতি তাদের অঙ্গীকার দুর্বল করা যাবে না।
বিবৃতির শেষাংশে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংস্কার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে, বিদ্বেষমূলক প্রচার কিংবা অপচেষ্টা দিয়ে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
