ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে নিজের সব লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করবেন অ্যান্ডি বার্নহাম। বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকার সময় তিনি ক্লাবের সঙ্গে যা যা করেছেন, তার সবই তিনি সামনে আনবেন। সিটির মালিকদের পক্ষে তার একটি মন্তব্যের পর বিতর্ক উঠেছিল। এরপরই তিনি এই কথা বললেন।
বিরোধী দলের নেতা কেমি বেইডেনক তাকে এ বিষয়ে ‘সবকিছু’ প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বার্নহাম বলেন, বিরোধী দলের নেতা তার বৈঠকের তথ্য প্রকাশ করতে বলেছেন। এতে তার কোনো আপত্তি নেই। দ্য রেস্ট ইজ পলিটিক্স পডকাস্টের এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। সাক্ষাৎকারটি সোমবার প্রকাশ হওয়ার কথা।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভেঙেছে সিটি, এমন রায় এসেছে। ক্লাবটি নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করছে। তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করেছে।
গত মাসে বার্নহাম বলেছিলেন, সিটির আবুধাবি-ভিত্তিক মালিকেরা ক্লাব বিক্রি করে দিলে তিনি ‘সত্যিই উদ্বিগ্ন’ হবেন। মালিকদের তিনি ‘আধুনিক ম্যানচেস্টার গড়ার এক বিশাল অংশীদার’ বলেও উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যে অনেকে ভ্রু কুঁচকেছিলেন। পরে ডাউনিং স্ট্রিট বিষয়টি পরিষ্কার করে। তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন রায়টি গুরুতর। অন্যায় প্রমাণিত হলে দায়ীদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বার্নহাম বলেন, ক্লাবের মালিকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তিনি যা যা করেছেন, তার সবই তিনি ‘সামনে আনবেন’। তার ভাষায়, ফুটবলের বিষয় আর বিনিয়োগের বিষয় আলাদা। তিনি বলেন, এখন কিছু মানুষ এই দুটিকে এক করে দেখার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগে কখনো এসব বৈঠকের কথা গোপন করিনি। সত্যি বলতে, আমার বৈঠকগুলোর কোনোটিই সাম্প্রতিক নয়। আমি মাত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলাম। সেটা ২০২১ সালে। আমি সবকিছু সামনে আনব।’
বার্নহাম আরও বলেন, ‘ফুটবলের বিষয়গুলো গুরুতর। এগুলোর মীমাংসা করতে হবে। প্রক্রিয়াটি স্বাধীন এবং এটি নিজের গতিতে চলবে। কিন্তু আমার মনে হয়, সবারই বিনিয়োগের বিষয়গুলোকে আলাদা করে দেখা উচিত। কারণ এই দুটি এক জিনিস নয়।’
প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে, একটি স্বাধীন কমিশন সিটির বিরুদ্ধে ‘ভুয়া’ বাণিজ্যিক চুক্তির প্রমাণ পেয়েছে। কয়েকটি স্পনসরের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছিল। এগুলো ছিল গোপন অর্থায়ন পরিকল্পনার অংশ। ওই কোম্পানিগুলোকে স্পনসরশিপ ফির শুধু একটি অংশ দিতে হতো। কমিশনের মতে, বাকি অংশ এসেছে শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহইয়ানের প্রতিষ্ঠান থেকে। প্রতিষ্ঠানটির নাম আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। ক্লাবটির বেশির ভাগ মালিকানা তাদের হাতে।