
কুতুবদিয়া ৩ নম্বর ব্রিজে পর্যটকের ভিড়, জমে উঠছে স্থানীয় কৃষিপণ্য ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের বাজার
পাহাড়ঘেরা সবুজ বন, স্বচ্ছ জলধারা আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন, সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বহলতলী-কুতুবদিয়া এলাকার ৩ নম্বর ব্রিজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজটির ছবি ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। বিশেষ করে বিকেলবেলা ও শুক্রবারের অবসরে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ব্রিজসংলগ্ন এলাকা।
একদিকে পাহাড়, বন আর কাপ্তাই জলরাশির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা। এই দুইয়ের সমন্বয়ে জায়গাটি ধীরে ধীরে একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
প্রকৃতির টানে ছুটছেন দর্শনার্থীরা:
বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে চন্দ্রঘোনা-রাইখালী অভিমুখী নির্মাণাধীন সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অবস্থিত এই ব্রিজের চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ সহজেই মানুষের দৃষ্টি কাড়ে। ব্রিজের চারিপাশে সবুজে ঘেরা বনভূমি, জলধারা ও দূরের পাহাড়ের সারি তৈরি করেছে নৈসর্গিক দৃশ্যপট।
শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসছেন। কেউ উপভোগ করছেন পাহাড় ও জলরাশির সৌন্দর্য, কেউ তুলছেন ছবি, আবার কেউ কাটাচ্ছেন অবসর সময়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজটির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় এর পরিচিতি আরও বেড়েছে। ফলে স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন বলে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
পর্যটকের আগমণে জমছে স্থানীয় বাজার:
দর্শনার্থীদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ঘিরে এলাকায় তৈরি হচ্ছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। পর্যটকদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরণের শাক-সবজি ও খাদ্যশস্য নিয়ে বসছেন ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয় জলধারা থেকে সংগ্রহ করা কাঁকড়া, শামুক ও চিংড়িসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য। স্থানীয়ভাবে তৈরি বৈচিত্র্যময় খাবার ও পানীয়ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে।
ফলে এখানে ঘুরতে আসা মানুষ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেই ফিরছেন না, অনেকেই ফেরার পথে পরিবারের জন্য স্থানীয় কৃষিপণ্য ও পছন্দের খাবার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পর্যটন ও কেনাকাটার এই সমন্বয় স্থানীয় মানুষের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষক, মৌসুমি বিক্রেতা ও স্থানীয় খাদ্য উদ্যোক্তাদের জন্য এটি হয়ে উঠছে আয়ের একটি নতুন ক্ষেত্র।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের হাত ধরে গড়ে উঠছে দোকানপাট:
পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে বিভিন্ন ধরণের দোকানপাট ও অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র। খাবার, পানীয়, কৃষিপণ্যসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নানা সামগ্রী বিক্রির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা পর্যটকদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছেন। পরিকল্পিতভাবে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া গেলে স্থানীয় উৎপাদক ও বিক্রেতাদের জন্য স্থায়ী বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে স্থানীয় তরুণদের জন্যও।
তবে পর্যটনকেন্দ্রটির বিকাশ যেন স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে যায়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ খাদ্য বিক্রি এবং পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানটির আকর্ষণ আরও বাড়বে।
এদিকে উপজেলার প্রধান খাল রাইংখ্যং এর ওপর নির্মানাধীন ২নম্বর ব্রীজটির নির্মাণ কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। এটির সম্ভাবনাও যথেষ্ট রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সময়সীমা মেনে চলার আহ্বান:
পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ঐ এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে রাত ৯টার পর পর্যটকদের নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সদর ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ৯অক্টোবর'২০২৬খ্রি: তারিখ এক লিখিত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যা সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পর্যটকদের জন্য এ নির্দেশনা মেনে চলা যেমন জরুরি, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন। এতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত ও জোরদার হবে।
সম্ভাবনার সঙ্গে প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা:
বিলাইছড়ির ৩ নম্বর ব্রিজকে ঘিরে পর্যটনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ চলাচল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্দিষ্ট স্থানে দোকানপাট স্থাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পণ্যের মান বজায় রাখার উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিক্রির উপযুক্ত স্থান নিশ্চিত করা গেলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন পরিচালনা করা গেলে এই ব্রিজ শুধু দর্শনার্থীদের অবসর কাটানোর স্থান হিসেবেই নয়, স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পাহাড়, বন ও জলরাশির সৌন্দর্যে ঘেরা বিলাইছড়ির এই ৩ নম্বর ব্রিজ তাই ক্রমেই হয়ে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বহলতলী-কুতুবদিয়ার এই স্থানটি ভবিষ্যতে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই ঐ এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে রাত ৯টার পর পর্যটকদের নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সদর ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ৯অক্টোবর'২০২৬খ্রি: তারিখ এক লিখিত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যা সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য এ নির্দেশনা মেনে চলা যেমন জরুরি, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন। এতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খলা নিশ্চিত ও জোরদার হবে।
সম্ভাবনার সঙ্গে প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা:
বিলাইছড়ির ৩ নম্বর ব্রিজকে ঘিরে পর্যটনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ চলাচল, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্দিষ্ট স্থানে দোকানপাট স্থাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পণ্যের মান বজায় রাখার উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিক্রির উপযুক্ত স্থান নিশ্চিত করা গেলে পর্যটনের অর্থনৈতিক সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন পরিচালনা করা গেলে এই ব্রিজ শুধু দর্শনার্থীদের অবসর কাটানোর স্থান হিসেবেই নয়, স্থানীয় মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পাহাড়, বন ও জলরাশির সৌন্দর্যে ঘেরা বিলাইছড়ির এই ৩ নম্বর ব্রিজ তাই ক্রমেই হয়ে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বহলতলী-কুতুবদিয়ার এই স্থানটি ভবিষ্যতে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
