বগুড়ার কাহালুতে জমির ধানগাছ কেটে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. দুলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের মালঞ্চা মধ্যপাড়া গ্রামে নিজের বাড়িতে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
লিখিত বক্তব্যে দুলাল হোসেন বলেন, গত ২০ অক্টোবর মালঞ্চা মাজারপাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীম আলীর ছেলে ওমর আলী তার বিরুদ্ধে জমির ভোগদখল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতেই পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে জানান তিনি। দুলাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তাদের দীর্ঘদিনের দখলে থাকা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছিল। তার বাবা ২০২০ সালে মারা যাওয়ার পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের মারধর করেন। এতে তার মেরুদণ্ড এবং তার মায়ের হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
সে সময় ন্যায়বিচার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় নেন বলেও জানান। তিনি বলেন, বগুড়া জেলা সিভিল জজ আদালতে ৬০/৮৯ নম্বর বণ্টন মামলায় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ১৯৯৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁদের উত্তরাধিকারীদের পক্ষে প্রাথমিক রায় দেওয়া হয়।
পরে ডিক্রি পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এরপর একই আদালতে ৩/২০১২ নম্বর ডিক্রি জারি মামলা করা হলে সেটিও ডিক্রিদারের পক্ষে নিষ্পত্তি হয় বলে তার দাবি।
দুলাল হোসেন বলেন, ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী প্রাপ্য জমির স্বত্ব ও দখল বুঝে নেন তারা। এরপর থেকে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে কাহালু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমি আবু তাহেরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে জমিগুলোর ভোগদখলের অধিকার আবু তাহেরের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি মালঞ্চা মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর ৬৫-এর বিভিন্ন দাগে জমি এবং অঘোর মৌজার সিএস খতিয়ান নম্বর ১৪৩-এর কয়েকটি দাগের জমির বিবরণ তুলে ধরেন।
তবে জমির মালিকানা, আদালতের রায় ও দখলসংক্রান্ত বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
বিআলো/আমিনা