চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি ও অভিযোগ শোনেন এবং উপাচার্যের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন আন্দোলনকারীরা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “কোনো সংকট তো আর মাসের পর মাস চলতে পারে না। সরকারের সঙ্গে আমরাও আলোচনা করছি। আমরা প্রত্যাশা করি, দ্রুতই সংকটের নিরসন হবে।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। তবে উপাচার্য নিয়োগ ও অপসারণের সিদ্ধান্ত সরকারের এখতিয়ারভুক্ত।
পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে উপাচার্যের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় তাঁর রক্তচাপ ছিল ১৫০/১০০। উপাচার্য বুকে ও শরীরের বাঁ পাশে তীব্র ব্যথা অনুভব করার কথাও জানান।
সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। এর ফলে প্রায় ৩০ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনেই আটকে থাকতে হয় তাঁকে।
উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার উপাচার্যকে মুক্ত করা হলেও চুয়েটে চলমান অচলাবস্থার স্থায়ী সমাধান এখনো আসেনি। সংকট নিরসনে সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া।
এই বাংলা/এমএস
