মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে গত শনিবার বিক্ষোভ চলাকালে ইমরান খানকে আটক করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতে চলমান আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। আজ শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘তিরঙ্গা মার্চ’ বা জাতীয় পতাকা মিছিলের কর্মসূচি বন্ধ করতে অস্বীকার করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পুলিশকে আইন মেনে পুরো জমায়েত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
এক হকার ও এক ব্যবসায়ীর দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত জানান। আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, উৎসবের মৌসুমে ঘন ঘন পথ বন্ধের কারণে ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তবে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতকে আশ্বস্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এর আগে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সিজেপির কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশের পর সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে দেশের তরুণ ও নাগরিকদের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল পার্কে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদের জেরে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে বহু আন্দোলনকারীকে আটক করা হলেও সিজেপির এই নতুন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলোর ‘ইন্ডিয়া’ জোট। আম আদমি পার্টিও (আপ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে বিজেপিবিরোধী আন্দোলনগুলো এখন একই মঞ্চে একত্রিত হতে চলেছে।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে দিল্লির রাস্তায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তাদের টেনে-হিঁচড়ে আটক করা হয়েছে। বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের আটক করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে আড়াল করার জন্যই এই দমনপীড়ন চালাচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা তোলার অপরাধে সিজেপি সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে জেলে বন্দি রয়েছেন। একই সংবাদ সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) নেত্রী নেহা বোরা অভিযোগ করেন, পেশাগত পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সাংবাদিকদের মারধর করেছে, দীর্ঘ সময় আটকে রেখেছে এবং তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছে।
অন্যদিকে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট গতকাল নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনারদের নোটিশ জারি করেছে।
ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ, আদালতে যাবেন তিনি
ভারতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাতিজা ইমরান খানকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে তাকে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে।
গতকাল পুলিশ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ইমরান খান মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
ইমরানের কাছে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ড রয়েছে। এর মাধ্যমে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকরা দেশটিতে যাতায়াত ও বসবাসের সুযোগ পান। তবে ভোট দেওয়া বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার পান না। পুলিশ জানায়, ভারতীয় নাগরিক না হয়েও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইমরানের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভারতের বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন দপ্তর (এফআরআরও) তাকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে।
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা কিরিত সোমাইয়া এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ, ইমরান ভারতজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত। তবে এ অভিযোগ নিয়ে ইমরান সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
গত ১০ অক্টোবর সিজেপির ডাকা বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান। ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নির্বাচনি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে দলটি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইমরান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি কোনো দাবি নিয়ে বা কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে যাননি। বরং শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা কেন সীমিত করা হচ্ছে এবং তাদের কণ্ঠ কেন দমন করা হচ্ছে, তা জানতে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। পরে অন্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাকেও কিছু সময়ের জন্য আটক করে পুলিশ। আটক অবস্থায় পুলিশের গাড়িতে বসে তোলা একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন তিনি। ছবির ক্যাপশনে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, আমাকে গাড়িতে ঘোরাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ পোস্টটি দুই মিলিয়নের বেশি লাইক পায়।
কিন্তু ইমরানের আইনজীবীর দাবি, ‘ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া’ হয়ে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই। সেই যুক্তিতেই দেশ ছাড়ার নোটিশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাবেন অভিনেতা। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে ও বিবিসি
