Published on
:
2 min read
সোমনাথ মণ্ডল
বড়দিনের রাতে যে রাস্তায় পা ফেলার জায়গা থাকে না, বর্ষবরণের উন্মাদনায় যে রাজপথ হয়ে ওঠে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র, এ বার ঢাকের বাদ্যি আর দুর্গার আরাধনায় সেই চেনা ছবি ফিরতে চলেছে পার্ক স্ট্রিটে।
দেবীপক্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে। আলোর রোশনাইয়ের ঝলমল করছে পার্ক স্ট্রিট। এত দিন ক্রিসমাস-নিউ ইয়ারের উৎসব মানেই ছিল পার্ক স্ট্রিট। 'জয় ওয়াক'–এর সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাওয়া–দাওয়া। এ বার সেই পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্ক হতে চলেছে 'প্যান্ডেল হপিং'–এর নতুন ডেস্টিনেশন। উত্তর-দক্ষিণের বড় বড় পুজো মণ্ডপগুলির পাশাপাশি ভিড়ের ঢল নামতে পারে পার্ক স্ট্রিটেও।
পুজোর ভিড় সামাল দিতে কী কী করতে হবে, ইতিমধ্যে তা ছকে ফেলেছেন পুলিশকর্তারা। সাধারণত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পার্ক স্ট্রিটের ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে থাকে লালবাজার। এ বার অক্টোবরেই সেই পরিকল্পনা সেরে ফেলতে হচ্ছে তাঁদের। এ বছর 'কলকাতা সনাতনী সঙ্ঘের' উদ্যোগে অ্যালেন পার্কে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পার্ক স্ট্রিটের মোড় থেকে মল্লিকবাজার মোড় — প্রায় দু'কিলোমিটার পথ আলোয় আলোয় সেজেছে। চন্দননগর এবং কাঁথির আলোকশিল্পীদের হাতের জাদুতে তাক লাগিয়েছে সেই আলো। পুজোয় অনুষ্ঠান করবেন বাংলার লোকশিল্পী এবং জাতীয়স্তরের শিল্পীরা।
সূত্রের খবর, ভিড়ের কথা মাথায় রেখে দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পথ আগাম নির্দিষ্ট করে রাখতে চাইছে পুলিশ। জওহরলাল নেহরু রোড ও পার্ক স্ট্রিটের সংযোগস্থল থেকে হেঁটে অ্যালেন পার্কে পৌঁছনোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা থেকে মেট্রোয় আসা দর্শনার্থীরা পার্ক স্ট্রিট স্টেশনে নেমে যাতে মণ্ডপ পর্যন্ত সুষ্ঠু ভাবে হেঁটে যেতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। টহলদারি করবেন পুলিশকর্তারাও।
মল্লিকবাজার থেকে পার্ক স্ট্রিটের দিকে পথচারীদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে। শিয়ালদহ বা পার্ক সার্কাসের দিক থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে থাকছে ইলিয়ট রোড হয়ে রয়েড স্ট্রিট। সেখান থেকে স্টিফেন কোর্টের সামনের রাস্তা ধরে অ্যালেন পার্কে পৌঁছনো যাবে। পার্ক স্ট্রিটে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে পুলিশ। ভিড় মাত্রা ছাড়ালে সাময়িক ভাবে মূল রাস্তায় যান নিয়ন্ত্রণ করা হতে পারে।