মৌলভীবাজারে সড়কের ১৪টি গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সড়কের পাশ থেকে রাতের আঁধারে বিভিন্ন প্রজাতির ১৪টি বড় গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে ঘোরামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোরামারা এলাকায় সড়কের পাশের জাম, ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণিসহ প্রায় ১৪টি বড় গাছগুলো কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনাস্থলে গাছের গোড়া ও ডালপালা পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
স্থানীয়দের ধারণা, ইলেকট্রিক করাত দিয়ে গাছগুলো কাটা হয়েছে। গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘সড়কের ঘোরামারা এলাকার কাছেই রাজকান্দি বন রেঞ্জের কার্যালয় ও সড়কে একটি চেকপোস্ট রয়েছে। এরপরও গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। তার ধারণা, গাছগুলো কাটতে কমপক্ষে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লেগেছে।’
পুলিশি টহল থাকার পরও এত বড় গাছগুলো কীভাবে কেটে নিয়ে যাওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া কোনো বড় সিন্ডিকেটের কাজ হতে পারে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগ, থানা-পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
রাজকান্দি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা তানভির হোসেন জানান, এলজিইডির সড়কের পাশ থেকে গাছ চুরির বিষয়টি তারা শুনেছেন। বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্ধীপ তালুকদার জানান, গাছ চুরির বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। থানার ওসি ছুটিতে থাকায় তিনি ফিরে এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলক পুরকায়স্থ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৩
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->গাজীপুরে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে ইয়াবাসহ আটক করা আসামি ছিনিয়ে নিতে জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় শনাক্ত করে হামলায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও ইয়াবাসহ দুইজন আটকের ঘটনায় আরও একটি মামলা করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের প্ল্যাটফর্মে আনিছ ও শিমলা নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছিলেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের ৫৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করে জংশনের পাশে অবস্থিত রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই মাদক ব্যবসায়ীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে আটক মাদককারবারীদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। হামলায় জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এটিএসআই) নূরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিকুর রহমান আহত হন। হামলা ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আহত পুলিশ সদস্য এটিএসআই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন।
আরও পড়ুন
এ ঘটনার পরপরই গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রাতেই শুভ, ছানোয়ার হোসেন হৃদয় ও ইয়াসিন নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন জানান, ফাঁড়িতে হামলায় করা মামলায় রাতে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও মাদকসহ দুজনকে আটক করা হয়েছিল, তাদেরও এ হামলা ও মাদকের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ইতোমধ্যে গাজীপুর সদর মেট্টো থানা পুলিশ আসামিদের রেলপথ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাদের ঢাকার আদালতে তোলা হবে।
পলাশ প্রধান/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
গোসাইরহাটে ৫০ হাজার মিটার জাল জব্দ
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কুচাইপট্টি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানায়, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধে অভিযান পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
আরও পড়ুন
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কুচাইপট্টি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমগীর মৃধার মুদি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকান থেকে ১২০ বান্ডিল নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় দোকানি আলমগীর মৃধাকে তিনহাজার টাকা জরিমানা করা হয় ও পরে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
এ ব্যাপারে গোসাইরহাট উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কাশেম নিরব বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, বিক্রি ও মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাতে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ শেষে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে আইন অমান্য করে কেউ নিষিদ্ধ জাল বিক্রি বা মজুত করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিধান মজুমদার অনি/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২০ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার (১৬ আক্টোবর) সপ্তাহিক ছুটি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৮ দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আজ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হবে। এজন্য আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে পূর্বের মতো আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে।’
আরও পড়ুন
এদিকে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও সরকারি ছুটি ছাড়া বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে ।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অফিসার ইনর্চাজ জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও, দুই দেশের পাসপোর্ট যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।’
এ ছাড়া আমরা সব পাসপোর্ট যাত্রীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইপূর্বক দুই দেশে ভ্রমণের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
কুদ্দুস আলী খান/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
লক্ষ্মীপুরে ৭৮টি মণ্ডপে দূর্গাপূজার প্রস্তুতি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ বাজার সর্বজয়া মন্ডপে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দূর্গা মন্ডপ। ছবি: খবরের কাগজ
-->লক্ষ্মীপুরের ৬টি উপজেলার ৭৮টি মণ্ডপে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মণ্ডপগুলোতে পূজা উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মণ্ডপগুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮টি, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি, রামগঞ্জ উপজেলায় ১৭টি, রায়পুর উপজেলায় ১৩টি, রামগতি উপজেলায় ১২টি এবং কমলনগর উপজেলায় ৩টি পূজামণ্ডপে এবার দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হতে যাওয়া এ উৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও উৎসাহের আমেজ।
পূজামণ্ডপ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূঁজা উদযাপন কমিটিগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে।
আরও পড়ুন
পূজা মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। মণ্ডপগুলোতে পুলিশ আনসার ও গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর নিজস্ব সেচ্ছাসেবক বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপ এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া উর্ধ্বতন পুলিশ এবং এসএসবির একাধিক টহলটিম নিরাপত্তায় কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার আবু তারেক।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমীন নিপা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করতে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শারদীয় দুর্গা উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি স্বপন নাথ ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বলেন, ‘প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলো মিলে আমরা একত্রে কাজ করছি। অতীতের মত এ জেলায় শান্তিপুর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী তারা।’
অপরদিকে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের চন্দ্রগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি শ্রী সমীর কর্মকারও একই ভাবে মতামত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ এ সময় তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের প্রতি শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
সমীর কর্মকার বলেন, ‘সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে এবং অন্য সব ধর্মের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে পূজার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তারা সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।
রফিকুল ইসলাম/তামান্না রুপা/
