ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে এক সহকারী শিক্ষিকার স্বামীর বিরুদ্ধে স্কুলে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সকালে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মশিউর রহমান। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী। এ ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুস সবুর জানান, সকালে হাজিরা দিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছে দেওয়ার পর মশিউর স্কুলে এসে সহকারী শিক্ষক রাশেদ কেন আধা ঘণ্টা দেরিতে এসেছেন, তা নিয়ে জবাবদিহি চান। রাশেদ পরীক্ষার কাজে ঢাকায় থাকায় দেরি হয়েছে বলে জানালে মশিউর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধান শিক্ষকের গেঞ্জির কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে শ্রেণিকক্ষের বাইরে এনে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মশিউর প্রায়ই স্কুলে এসে অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের চেয়ারে বসে প্রধান শিক্ষকের মতো আচরণ করেন। এর আগেও তিনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বিশৃঙ্খলা করেছেন এবং কিছুদিন আগে স্কুলের ওয়াই-ফাই রাউটার খুলে নিয়ে যান। বহিরাগত একজন ব্যক্তির এমন আচরণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত দোষীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলী জানান, ট্রেন বিলম্বের কারণে স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কথা তিনি আগেই প্রধান শিক্ষককে জানিয়েছিলেন। সেই বিষয়টি নিয়েই মশিউর এসে বাগ্্বিত-া ও একপর্যায়ে মারামারিতে লিপ্ত হন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার পর অভিযুক্ত মশিউর রহমানের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই আনসার আলী বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অতুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’