শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও দ্রুত সাড়াদানকারী দল মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে বাহিনীটি। এ জন্য দুর্গম এলাকায় ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আজ রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান, বিজিবিএম, পিএসসি, আর্টিলারি।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার আওতায় থাকা ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টি সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে, ১ হাজার ১১৯টি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং ১৮৩টি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।
দুর্গম এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮টি বেস ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সাড়াদানকারী দল (কিউআরএফ) প্রস্তুত রাখা, ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার এবং বিজিবির সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজামণ্ডপের কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বিজিবি। ঢাকায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য ছড়ানোর আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
১০ মাসে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ
বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
এ সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক জব্দ করা হয়েছে। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩ জনকে।
একই সময়ে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, একটি সাবমেশিনগান, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২১৩টি গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি। মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মানব পাচার ও পুশ-ইন ঠেকাতে অভিযান
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ মানব পাচারের শিকার হতে যাওয়া ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে।
এ সময়ে দেশের ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় বাংলাদেশে পুশ-ইন চেষ্টার ১৮২টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে বিজিবি।
এ ছাড়া অভিযানে ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়েছে।
নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তি
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, ড্রোন ও রাতের বেলায় পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।
এমএ
