গাইবান্ধায় বিয়ের একদিন আগে অসুস্থ হয়ে আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরিফ সারিয়ার সৌমিক (২১) জেলা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার সুলতান মিয়ার ছেলে। সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক পাস করেন সৌমিক। হবু কনের বাড়িরও একই পাড়ায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৌমিক প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার বাড়িতে আসেন। কয়েকদিন আগে তিনি হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন। বৃহস্পতিবার সকালে তার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। স্বজনরা তাকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সৌমিককে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সৌমিকের বড় বোন শারমিন সুলতানা বলেন, এক মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে আমার ভাই। গত চার দিন থেকে জ্বরে ভুগছিল। বৃহস্পতিবার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে সকাল ৯টার দিকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত মাইশা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়।
শারমিনের অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দেন। ওষুধপত্র কিনে বাড়িতে নিয়ে আসা হয় সৌমিককে। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর বিকেলের দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। রাতে দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা রিকশায় বসে থাকতে হয় ভাইকে। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৌমিকের বন্ধু ছামছুর রহমান বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল চিকিৎসার জন্য এরকম ঘটনা ঘটেছে। আর হাসপাতালে জরুরি বিভাগ তো একটা ভোগান্তির নাম। সেখানে কিছু আউটসোর্সিং লোক আছে, তারা টাকা ছাড়া কোনো সেবা দেয় না। আর ডাক্তাররাও অনেক সময় রোগীর চাপে সামাল দিতে পারে না। তার এ মৃত্যু বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে দায়ী করব আমি।
এদিকে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল। বৃহস্পতিবার ছিল গায়ে হলুদের আয়োজন। বিয়েকে ঘিরে দুই পরিবারেই চলছিল নানা প্রস্তুতি। কনের বাড়িতে সাজানো হয়েছিল আলোকসজ্জার গেট, সাজানো হয়েছিল বাড়িঘর।
অন্যদিকে সৌমিকের বাড়িতেও ছিল বিয়ের আয়োজন। কিন্তু বিয়ের আগের দিনই তার মৃত্যুতে সব আয়োজন থেমে যায়। হঠাৎ বিষাদে পরিণত হয় বিয়ের সব আয়োজন।
