সমাবেশে বক্তারা বলেন, নগরীর জলাশয় সংরক্ষণ শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ও জড়িত। তাই রাজদিঘীসহ মহানগরীর সব সরকারি খাস পুকুর দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
গাজীপুর মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ সব খাস পুকুর দখল ও দূষণমুক্ত করে সংস্কার এবং টেকসই উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে ‘ভাওয়াল রাজদিঘী সংস্কার ও টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়ন আন্দোলন’। এ দাবিতে আজ বুধবার রাজদিঘীর পাড়ে সচেতনতামূলক সমাবেশ, ডাস্টবিন স্থাপন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, নগরীর জলাশয় সংরক্ষণ শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ও জড়িত। তাই রাজদিঘীসহ মহানগরীর সব সরকারি খাস পুকুর দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সংগঠনের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন রনির সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন গাজীপুর জজকোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট হাফিজুল্লাহ দর্জি, সিরাজুল হক খোকা, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. তাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, মো. জাহিদ শেখ, ইঞ্জিনিয়ার মো. মাসুম বিল্লাহ, মো. আসিফুজ্জামান, মাশরুর আরেফিন রাতুলসহ সংগঠনের অন্য নেতারা।
মনোয়ার হোসেন রনি বলেন, শতবর্ষী ভাওয়াল রাজদিঘী সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগকে তারা সাধুবাদ জানান। তবে শুধু রাজদিঘী নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অন্য খাস পুকুরগুলোও দখল ও দূষণমুক্ত করতে হবে। এসব জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
রাজদিঘীর পানি ও পাড়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জলাশয় রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও গুরুত্ব দেন।
অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম আলম বলেন, নগরের জলাশয় সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য জরুরি। এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি মহানগরীর সব খাস পুকুর পুনরুদ্ধার, বর্জ্যমুক্ত করা এবং পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের দাবি জানান।
সমাবেশে কাজী আজিম উদ্দিন কলেজসংলগ্ন পুকুরটি দ্রুত সংস্কার ও এর চারপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, পুকুরটি সংস্কার করে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলা হলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি টাংকির পাড়, মুন্সিপাড়া ও গাজীপুর ক্লাবসংলগ্ন পুকুরসহ মহানগরীর অন্য খাস পুকুরগুলোও পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধার ও পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, পুকুর ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে মশার বংশবিস্তার রোধে সহায়তা করা সম্ভব। এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা যাবে।
সমাবেশ শেষে রাজদিঘীসংলগ্ন বাসিন্দা, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। বক্তারা ঐতিহ্যবাহী রাজদিঘী থেকে শুরু করে মহানগরীর সব খাস পুকুর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
