বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রথম জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মরহুমের সহযোদ্ধা ও অসংখ্য গুণগ্রাহী এ জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার আগে মরহুমের সংক্ষিপ্ত জীবন ও রাজনৈতিক অবদান স্মরণ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরিবার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজা ও দাফন তিন ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রথম জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দুপুর দেড়টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর বিকেল ৩টায় রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকার ঐতিহাসিক লাল মসজিদ প্রাঙ্গণে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে জুরাইন কবরস্থানে তার বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপির এই প্রবীণ নেতা।
রাজনৈতিক জীবন ও অবদান
সালাহউদ্দিন আহমেদ ১৯৫৪ সালের ১ মে ঢাকার কদমতলী পশ্চিম, শ্যামপুর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আব্দুর ব্যারেক সর্দার। তিনি ধোলাইপাড় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ব্যবসা ও প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ‘দৈনিক দেশ জনতা’ পত্রিকার মালিক ও সম্পাদক ছিলেন। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেন।
তিনি ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি ডাক, ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
তিনি ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপি’র রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাজধানীর শ্যামপুর-কদমতলী এলাকায় বিএনপির জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মৃত্যুকালে সালাহউদ্দিন তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
