কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ-২) আসনের নেতাকর্মীদের সাথে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছেন দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা ধরে ক্লাউড-ভিত্তিক অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’-এর মাধ্যমে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ভার্চ্যুয়াল সভায় অংশ নেন বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির একাধিক তৃণমূল কর্মী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বানিয়াচং উপজেলা যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সাবেক সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল পূর্বেই সকল নেতাকর্মীকে এই ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে যুক্ত থাকার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, টেলিগ্রামে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনসহ কয়েকজন নেতা।
সভায় ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য রাখেন বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর মিয়া, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান আসাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হালিম সোহেল ও রিপন চৌধুরীসহ বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে পুনর্গঠিত ও সুসংগঠিত করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। এছাড়া আগামী ডিসেম্বর মাসকে ঘিরে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও প্রদান করেন তিনি।
দীর্ঘসময় ধরে চলা এই বৈঠকের খবরটি বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বৈঠকে বানিয়াচং উপজেলার তৃণমূলের কারানির্যাতিত নেতাকর্মীদের বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর মিয়ার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই ফেসবুকে পোস্ট করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।
