পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিবারণ কবিরাজ বাড়ির দিঘিতে এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়।
শুভময় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা উত্তর মহানগরের সহসভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ্ আলম শানু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুজ্জামান বাদল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বশার, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমরান শাহিনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিবারণ কবিরাজ বাড়িতে ১৯৪৪ সালে একটি দিঘি খনন করা হয়। দিঘিটি দীর্ঘদিন ধরে দশমিনা উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর সেখানে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। এ বছর ৫৮তম নৌকাবাইচে ১০ থেকে ১২টি নৌকা অংশ নেয়। এতে উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ প্রায় দেড় লাখ মানুষ নৌকাবাইচ উপভোগ করতে উপস্থিত হন।
প্রতিযোগিতায় ‘বাংলার তরী’ প্রথম এবং ‘সোনার তরী’ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। পরে প্রধান অতিথি সনি-র্যাংগসের সৌজন্যে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
নৌকাবাইচ দেখতে আসা অদির চন্দ বলেন, নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিবারণ কবিরাজ বাড়ি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। এ আয়োজন দশমিনা উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে। নৌকাবাইচ দেখতে উপজেলা প্রশাসনসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত হন।
সমাপনী বক্তব্যে ইউএনও মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, নিবারণ কবিরাজ বাড়ির দিঘিটি উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করছে। উপজেলা প্রশাসন ও নৌকাবাইচ কমিটির আয়োজনে এ বছর উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তিনি অভিভূত। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নৌকাবাইচ সম্পন্ন হওয়ায় তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
