কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন পাটোয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি একটি বিলাসবহুল অবকাশ যাপন কেন্দ্রে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দশে দাঁড়িয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সবাই পর্যটক বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একটি শিশুসহ ছয়জনের পরিচয় ইতিমধ্যে শনাক্ত করা গেছে।
গত শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন ‘টুপটুপ’ নামের ওই রিসোর্টটিতে হঠাৎ করেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ ও আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়া নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন এবং তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খানসহ মান্নান, মেহেরুন্নেসা, মাসুদ ও সামিদা।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, সকালের দিকে হঠাৎ করেই রিসোর্টটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ও পুলিশের সহায়তায় দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান যে, উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দশটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও নেপথ্য বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
