খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তরচক বহুমুখী কামিল মাদ্রাসায় ছয়জন কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, প্রশ্ন ফাঁস ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের অভিযোগ তুলে বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সচেতন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কয়রা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উত্তর শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাসুদুর রহমান অনিয়মের মাধ্যমে ছয়জন কর্মচারীর নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রতিনিধি নিয়োগের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, বায়েজিদ ইসলাম নামে এক প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল। এর মধ্যে নগদ তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একইভাবে শাহিন ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে চার লাখ টাকার চুক্তিতে দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণাদি নিজের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের প্রতিবাদে সচেতন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরচক বহুমুখী কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, সকল নিয়মকানুন মেনেই নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
