চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মা ইলিশ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সন্দ্বীপ চ্যানেলের গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের অভিযোগে চারটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। এসব নৌকা থেকে প্রায় সাত টন মা ইলিশ ও এক লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।
জব্দ করা ইলিশের বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এ ঘটনায় চার নৌকার মালিককে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ১৮ ঘণ্টা গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে এসব মাছ, জাল ও নৌকা জব্দ করা হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বাধীন দল।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দ্বীপ চ্যানেলের গভীর সমুদ্রে ভোলা থেকে আসা কয়েকটি নৌকায় মাছ শিকারের তথ্য পায় মৎস্য বিভাগ। পরে অভিযান চালালে নৌকায় থাকা জেলেরা অভিযান পরিচালনাকারীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা নৌকা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে চারটি নৌকাসহ সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়।
অভিযানে জব্দ করা এক লাখ মিটার কারেন্ট জালের বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। পরে জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
মৎস্য কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, মা ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ সময়ে জেলেদের জীবিকা সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে চালসহ বিকল্প আয়বর্ধক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, ‘ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধি ও মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিটি নিষিদ্ধ সময়কে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান পরিচালনা করে সফল হতে পেরেছি। মা ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
