তারাকান্দা হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার(২৪অক্টোবর) সকাল ১০টায় তারাকান্দা হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অবহেলা বন্ধে করা হুঁশিয়ারি দেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে জরুরি বিভাগ ও বহিবিভাগ(আউটডোর) সরে জমিনে ঘুরে দেখেন এবং ইনডোর খোলার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও সরকারি ওষুধ সঠিকভাবে বিতরণ করা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,"সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কোন ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। রোগীদের হাসপাতালে ভেতরের পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন,গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোড়গোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং কমিউনিটি ক্লিনিক বলে কোন নাম থাকবে না। আমরা ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার করবো। উপজেলা হাসপাতাল গুলোকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল করবো। আগামীকাল মিটিং করে এখানে ইনডোর চালু নেই, ইনডোর চালু করবো। তিনি আরো বলেন,ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ টি বছর কোন লোক বল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১৭টি বছর শুধু স্বাস্থ্য খাতে লুটপাট ও চুরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ দুই বছরের মাঝে উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি সহ প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ সিটের বরাদ্দ করা হবে। একই সাথে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার করা নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন,যারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শনের সময় ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন মো: ফখরুল হাসান চৌধুরী, তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিনিধি এবং হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

৭ রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন করবেন যেভাবে
৭ রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এককালীন এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এসব রোগে আক্রান্ত রোগীদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রত্যেক রোগীকে এ সহায়তা দেওয়া হবে। এ অর্থবছরে ৬৫ হাজার রোগীকে এ সহায়তা প্রদান করবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। রোগ সাতটি হলো- ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, প্যারালাইসিস, হৃদরোগ, লিউকেমিয়া ও থ্যালাসেমিয়া। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুরারোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো এবং তাঁদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এ সহায়তা পেতে রোগী নিজে অথবা তাঁর পরিবারের সদস্য, অভিভাবক কিংবা আইনানুগ অভিভাবক অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বরাদ্দ বেড়ে ৬৫০ কোটি টাকা: অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ওই বছর সহায়তা পেয়েছিলেন ৫৬১ জন। পরবর্তী বছরগুলোতে কর্মসূচির বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ৩০০ কোটি টাকা করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। যা ৬৫ হাজার রোগীদের এ সহায়তা প্রদান করা হবে। কারা অগ্রাধিকার পাবেন: আর্থিক সহায়তা পেতে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। রোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দরিদ্র ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের আয় ও ব্যয় বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া যেসব রোগীর দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং যাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রতিবন্ধী, শিশু, নারী ও প্রবীণ রোগীরাও অগ্রাধিকার পাবেন। কোনো আবেদনকারী ভুল তথ্য দিলে, জাল কাগজপত্র জমা দিলে, সরকার থেকে এ-সংক্রান্ত অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে অথবা তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সহায়তা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাঁর আবেদন বাতিল করতে পারবে সংশ্লিষ্ট কমিটি। একই অর্থবছরে একজন আবেদনকারী একবার এবং সারা জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার এ আর্থিক সহায়তা পেতে পারবেন। আবেদনের জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে: আবেদনের জন্য রোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, অপ্রাপ্তবয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি জমা দিতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারী, অভিভাবক বা আইনানুগ অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি, নমিনির তথ্য, রোগী বা আবেদনকারী কিংবা অভিভাবকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ব্যাংকের চেকবইয়ের কভার পাতার ফটোকপি জমা দিতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপিও আবেদনের সঙ্গে দিতে হবে। রোগভেদে যেসব পরীক্ষার রিপোর্ট লাগবে: ক্যান্সারের ক্ষেত্রে টিস্যু ডায়াগনস্টিক, হিস্টোপ্যাথলজি, সাইটোপ্যাথলজি, বোন ম্যারো বা বায়োপসি রিপোর্টসহ প্রযোজ্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কিডনি রোগের ক্ষেত্রে রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নির্ণয়ের রিপোর্ট এবং ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত রিপোর্ট দিতে হবে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নেওয়ার প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্রের চিকিৎসকের সনদও সংযুক্ত করতে হবে। লিভার সিরোসিসের ক্ষেত্রে লিভারের আল্ট্রাসনোগ্রাম ও ফাইব্রোস্ক্যান রিপোর্টসহ অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রয়োজন হবে। প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট কিংবা রোগের প্রমাণযোগ্য ছবি জমা দেওয়া যাবে। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এনজিওগ্রাম বা ইকোকার্ডিওগ্রামের রিপোর্টসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে হবে। থ্যালাসেমিয়া ও লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস বা প্রযোজ্য অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হবে। অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগ শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট সাধারণত অনধিক এক বছরের পুরোনো হতে হবে। প্রয়োজনীয় রিপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হবে; মূল কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেভাবে আবেদন করবেন: প্রথমে অনলাইনে আবেদনের নির্ধারিত লিংকে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের স্বাক্ষরিত প্রিন্টকপি, চিকিৎসকের সর্বশেষ ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি এবং পরীক্ষার রিপোর্টের সত্যায়িত কপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে হবে। অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আবেদন ফরমসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রত্যয়নপত্র পূরণ করে দুই কপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

দেশে ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত: ডা. জুবাইদা
দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগটির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আরও গবেষণা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার সক্ষমতা কমে যায়। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় নারীদের হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতির চিত্র অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা উন্নত দেশগুলোর নারীদের তুলনায় এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। তাই রোগটির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও গবেষণা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির প্রস্তাব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ৬৪টি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিংয়ের অভাবে এ রোগের ব্যথা ও দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ জনগণকে রোগটির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশের এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এ উপলক্ষে নিয়মিত আলোচনা সভা, র্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শৈশব থেকেই হাড়ের যত্ন নেওয়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে শৈশব থেকেই পুষ্টি, ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং ভিটামিন ডির ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিতে হবে। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগ এবং এর জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তিনি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত বিরতিতে কমিউনিটিভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, অস্টিওপোরোসিসের ক্ষতিকর পরিণতি কমাতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হচ্ছে। হাড়ের ক্ষয়জনিত এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়। অস্টিওপোরোসিসে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। | ঢাকা : দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোগটির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আরও গবেষণা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার সক্ষমতা কমে যায়। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় নারীদের হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতির চিত্র অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা উন্নত দেশগুলোর নারীদের তুলনায় এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। তাই রোগটির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও গবেষণা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচির প্রস্তাব অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দেশে একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ৬৪টি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিংয়ের অভাবে এ রোগের ব্যথা ও দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ জনগণকে রোগটির ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি দেশের এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এ উপলক্ষে নিয়মিত আলোচনা সভা, র্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। শৈশব থেকেই হাড়ের যত্ন নেওয়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে শৈশব থেকেই পুষ্টি, ক্যালসিয়াম গ্রহণ এবং ভিটামিন ডির ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্ব দিতে হবে। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগ এবং এর জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। তিনি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত বিরতিতে কমিউনিটিভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, অস্টিওপোরোসিসের ক্ষতিকর পরিণতি কমাতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম। উল্লেখ্য, ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হচ্ছে। হাড়ের ক্ষয়জনিত এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর দিবসটি পালিত হয়। অস্টিওপোরোসিসে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

স্বাস্থ্য খাতে ৭০ হাজার কোটি টাকার বাজেট, নিয়োগ দেওয়া হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা বাড়ানো নয়; বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে রোগ, শারীরিক অক্ষমতা ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধ নিশ্চিত করা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রাথমিক ব্যর্থতা নির্দেশ করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমি স্বাস্থ্যের প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালের প্রতিমন্ত্রী নই। আমাদের মূল অগ্রাধিকার হাসপাতাল বৃদ্ধি নয়, বরং তৃণমূল পর্যায় থেকে রোগ, শারীরিক অক্ষমতা ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা।” তিনি বলেন, প্রচলিত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেট অব থিংসের (আইওটি) সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে। যাতে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রোগীদের বারবার ঢাকায় ছুটতে না হয়। ভবিষ্যতে প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ পর্যায়ে এ ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ও চিকিৎসা উপকরণের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকারের প্রথম বাজেটে হার্টের রিং বা স্টেন্ট, ডায়ালিসিস ফিল্টার, সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) এবং কৃত্রিম চোখের লেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপকরণের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি ও অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা কমানোর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে যেসব কমিটির বৈঠক দুই বছরেও হতো না, গত পাঁচ মাসে সেসব কমিটির একটি তিনবার বৈঠক করে চিকিৎসাসামগ্রীর অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। এতে চিকিৎসা প্রযুক্তি আমদানি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু উচ্চমূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রি করলেই হবে না; এসব যন্ত্রপাতির জীবনকালীন ব্যয়, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং স্থানীয় প্রকৌশলী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের চিকিৎসা প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, দেশে চিকিৎসা যন্ত্রাংশ সংযোজন এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি অকেজো হয়ে পড়ে থাকা চিকিৎসা যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে জাতীয় ই-হেলথ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. এম এ মুহিত সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বৈশ্বিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল কার্যকরভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্যিক কাউন্সেলর পল জি ফ্রস্ট এবং মেডট্রনিক পিএলসি ও ইন্টেল করপোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. ওমর ইশরাক। এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন মেডট্রনিক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠী, জিই হেলথকেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি হেড ও ডিরেক্টর মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান (রোমেল), বেকটন ডিকিনসনের বাংলাদেশ বিজনেস লিডার মির্জা সজীব রায়হান এবং অ্যামচ্যাম হেলথকেয়ার সাবকমিটির ইনচার্জ ডিরেক্টর ও ন্যাটকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল-মামুন এম রাসেল। আলোচনায় দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, চিকিৎসা সরঞ্জামের সহজলভ্যতা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

ক্যানসার চিকিৎসায় প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রয়োজনে স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ক্যানসার চিকিৎসার আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও চালু করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা হবে। পাশাপাশি এসব যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত ‘জাতীয় ক্যানসার সম্মেলন ২০২৬’-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার জন্য ক্যানসার সেবা: প্রতিরোধ, নির্ভুল চিকিৎসা, উপশমমূলক পরিচর্যা ও নীতিনির্ধারণের সমন্বয়’। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে দ্রুত রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের রোগীরা নিজ দেশেই আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসাসেবা পাবেন। এসব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় জনবল ও টেকনোলজিস্ট রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনে আগামী তিন মাসের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য খাতের অতীতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের স্বাস্থ্য খাত অনেক পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার এ খাতে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরি থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফারহাদ হালিম ডালিম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

