আজকাল ওয়েবডেস্ক: চা বিক্রির আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল আস্ত এক ভুয়ো মেডিকেল কলেজ, আর সেই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে বসেছিলেন স্বয়ং এক স্থানীয় চা বিক্রেতা! উত্তরপ্রদেশের এমন অবিশ্বাস্য ও চরম উদ্বেগজনক জালিয়াতির ঘটনায় এবার রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়ল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টিকে শুধু বেআইনি নয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চরম আঘাত বলে উল্লেখ করেছে এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি-র চূড়ান্ত নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে।
আদালতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ওই স্বঘোষিত মেডিকেল কলেজটি কোনও বৈধ অনুমোদন বা পরিকাঠামো ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ডিগ্রির লোভ দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতানো হচ্ছিল। সবথেকে চক্ষু চড়কগাছ করার মতো বিষয় হল, প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষপদে বসানো হয়েছিল ওই স্থানীয় চা বিক্রেতাকে, যিনি জালিয়াতির আসল চক্রীদের হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলেন। বিচারপতিরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে, সেখানে খোদ একজন চা বিক্রেতা মেডিকেল কলেজের শীর্ষকর্তা সেজে বসে থাকেন কীভাবে?
এই ঘটনায় শুধু উত্তরপ্রদেশ সরকারই নয়, ইউজিসি-র দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা নিয়েও মারাত্মক প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, নাকের ডগায় দিনের পর দিন এমন ভুয়ো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে গজিয়ে উঠছে এবং ইউজিসি কেন কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে রয়েছে? কমিশন কেবল নোটিস পাঠানো বা ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করেই নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না। আদালতের নির্দেশ, অবিলম্বে এই ধরনের অনুমোদনহীন ভুয়ো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এদের মূল চক্রীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
