Published on
:
2 min read
৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর খাদ্য মায়ের দুধ। স্তনদুগ্ধ ছাড়া জলও শিশুকে দেওয়া যাবে না। আর ৬ মাসের পর থেকে ধীরে ধীরে সলিড ফুড খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে। কিন্তু আগামী ২ বছর একেবারেই চিনি দেওয়া চলবে না। এই নিয়ম-ই মেনে চলতে বলেন ডাক্তাররা। তবে অনেক সময়ে না চাইতেও মাস দুয়েক বয়স থেকেই বাজারচলতি কৌটোর দুধ খাওয়াতে হয়। এ বার সেই সব বেবিফুডের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি কেন্দ্রীয় খাদ্য সুরক্ষা ও গুণমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (FSSAI)। শিশু খাদ্যে কোনও রকম চিনি মেশানো চলবে না।
বেবিফুডে আগেও চিনি মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই সব ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। FSSAI-এর নয়া নির্দেশিকা, ৬ মাসের নীচে শিশুর খাবারে চিনি মেশানো যাবে না। এমনকী ফ্রুক্টোজ় বা সুক্রোজ়ও তাতে থাকবে না। যদিও ২ বছরের নীচে শিশুদের বেবিফুডে চিনি মেশানো যাবে না— এই নির্দেশিকা আগেই ছিল। এখন তা কমিয়ে ৬ মাস করা হয়েছে।
শিশুদের খাবারে কেন চিনি বা অন্য শর্করার মেশানো যাবে না?
জন্মের প্রথম ছ’মাসে শিশু বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে মিষ্টি স্বাদের জন্য কোনও উপাদান যোগ করার প্রয়োজন নেই। বরং, প্রথম থেকে যদি শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়, তা হলে ভবিষ্যতে নানা রকমের রোগ দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া বাচ্চার খাদ্যাভ্যাসও নষ্ট হয়ে যাবে।
এত কম বয়স থেকে চিনি বা অন্য শর্করা শিশুর শরীরে যায়, তা হলে ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভার, ডায়াবিটিস, ওবেসিটির মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রথম ছ’মাস মায়ের দুধ ছাড়া আর কিছুই সন্তানকে খাওয়ানো উচিত নয়। এমনকী জল খাওয়াতে বারণ করেন চিকিৎসকরা।
৬ মাসের পর থেকে ধীরে ধীরে ভাত-ডাল, মাছ-ফল শিশুকে খাওয়ানো হয়। কিন্তু সেই খাবারেও কোনও রকম চিনি যোগ করা যায় না। শুধু তা-ই নয়, মধু বা গুড়ের মতো প্রাকৃতিক শর্করাও শিশুর ডায়েটে রাখা চলবে না। তবে ৬ মাসের পর থেকে ফল খাওয়ানো যেতে পারে। তার মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ক্ষতি করে না বাচ্চার।
FAQ
১. জন্মের প্রথম ৬ মাস শিশুকে কী খাওয়ানো উচিত?
সাধারণত প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকের বিশেষ নির্দেশ ছাড়া জলও দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
২. FSSAI-এর নতুন প্রস্তাবে কী বলা হয়েছে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ মাসের কম বয়সি শিশুর খাবারে সুক্রোজ় ও ফ্রুক্টোজ় যোগ করা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি প্রস্তাবিত সংশোধনী—চূড়ান্ত নিয়মের অবস্থা আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
৩. শিশুর খাবারে চিনি যোগ করা উচিত নয় কেন?
অতিরিক্ত যোগ করা চিনি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্থূলতা ও বিপাকজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৪. ৬ মাসের পর শিশুর খাবারে চিনি বা গুড় দেওয়া যায়?
না। শিশুর খাবারে আলাদা করে চিনি বা গুড় যোগ না করাই ভালো। ১২ মাসের কম বয়সি শিশুকে মধুও দেওয়া উচিত নয়।
৫. ৬ মাসের পর শিশুকে ফল খাওয়ানো যায়?
হ্যাঁ। ৬ মাসের পর বয়সোপযোগী নরম বা মিহি করে দেওয়া ফল পরিপূরক খাবার হিসেবে খাওয়ানো যায়।
