দিনাজপুরের পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথ পরিদর্শনের সময় রেলওয়ের মোটর ট্রলি ভেঙে ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) বা পিডাব্লিউআই শেখ আল আমিনসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিরামপুরের ৩৫১/৬-৭ কিলোমিটার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত শেখ আল আমিনকে প্রথমে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। আহত অন্য চারজন হলেন ট্রলিম্যান আবু তাহের লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান, জিকরুল হক ও হাসান আলী। তারা বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রেলের হ্যামারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিয়মিত রেলপথের ত্রুটি-বিচ্যুতি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বুধবার ফুলবাড়ী থেকে বিরামপুরের দিকে মোটর ট্রলি নিয়ে যাচ্ছিলেন তারা। পথে ৩৫১/৬-৭ কিলোমিটার এলাকায় আউটার অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ট্রলিটি দুমড়েমুচড়ে ভেঙে পড়ে। এ সময় ট্রলির সামনের দিকে বসা শেখ আল আমিন রেললাইনের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ট্রলিতে থাকা অন্য চারজনও আহত হন।
পার্বতীপুর রেলওয়ের পিডাব্লিউআই কার্যালয়ের অফিস সহকারী সবুজ মিয়া বলেন, এ মুহূর্তে স্যারের অবস্থা ভালো নয়। বিরামপুর থেকে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে যোগাযোগ করা হলে পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাকিব হাসান বলেন, দুর্ঘটনাটি গুরুতর। শেখ আল আমিনের হাত, পা ও কপালে বড় ধরনের জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রেলের একটি সূত্র জানায়, মোটর ট্রলির সামনের দিকে বসে পিডাব্লিউআই রেলপথ পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় রেললাইনের দুটি অংশ সমান স্তরে আছে কি না, জোড়ার আংটা ও নাট-বল্টু ঠিক আছে কি না, কোথাও রেললাইন বেঁকে গেছে কি না এবং স্লিপারের সঙ্গে যুক্ত রেলবারের আংটা খুলে গেছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়।
পিডাব্লিউআইয়ের তত্ত্বাবধানে মোটর ট্রলি পরিচালিত হয়। এতে পিডাব্লিউআই ও ট্রলিম্যান ছাড়াও কিম্যান, রাজমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান ও খালাসিরা থাকেন। জরুরি প্রয়োজনে ট্রলিতে ওয়েল্ডিং মেশিন, শাবল, গাইতি, করাত ও কাটিং মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়।
