Published on
:
2 min read
বিয়ার নিয়ে যাওয়ার সময়ে গ্লাস থেকে চলকে কিছুটা এক মহিলার গায়ে পড়ে যায়। অভিযোগ, তার জেরেই দলজিৎ (২৯) নামে এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল নাইটক্লাবের বাউন্সারদের বিরুদ্ধে। শনিবার গভীর রাতে দিল্লির সরাই রোহিল্লা থানা এলাকার এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঘটনার পরেই নাইটক্লাবের মালিক-সহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মাঝরাতে বন্ধুদের নিয়ে নাইটক্লাবে গিয়েছিলেন দলজিৎ। বিয়ার আনার সময়ে এক বন্ধুর হাতের গ্লাস থেকে কিছুটা পাশে বসা মহিলার গায়ে পড়ে যায়। সেই নিয়েই শুরু হয় বচসা। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হাতাহাতিতে গড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসেন নাইটক্লাবের বাউন্সাররা। অভিযোগ, তাঁরা এসেই দলজিৎ ও তাঁর বন্ধুদের বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন।
নাইটক্লাবের কয়েক জন কর্মীও মারধরে যোগ দেন বলে অভিযোগ। লাঠি, রড দিয়ে দলজিৎ ও তাঁর বন্ধুদের এলোপাথাড়ি পেটানো হয়। এমনকী ভাঙা কাচের বোতল নিয়েও আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবি, মারধরের মাঝে বার বার ক্ষমা চেয়েছিলেন দলজিতের বন্ধুরা। কিন্তু তাতেও নিস্তার মেলেনি। এমনকী পালানোর চেষ্টা করলে নাইটক্লাবের ভিতরে টেনে নিয়ে গিয়ে তাঁদের আরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, মারধরে সবচেয়ে বেশি চোট পেয়েছিলেন দলজিৎ। তাঁকে সেখান থেকে কোনও রকমে উদ্ধার করে রঘুবীর নগরের বাড়িতে নিয়ে যান বন্ধুরা। কিন্তু বাড়ির গেটের সামনে আচমকাই লুটিয়ে পড়েন তিনি। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী, আট বছরের এক ছেলে এবং বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ছুটে আসেন। বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা মিলে দলজিৎকে গুরু গোবিন্দ সিং হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
ঘটনার পরেই নাইটক্লাবের বিরুদ্ধে দিল্লির সরাই রোহিল্লা থানায় অভিযোগ জানায় দলজিতের পরিবার। ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। রবিবার ওই নাইটক্লাবের মালিক, বাউন্সার-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজও। সেই হামলার ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলায় জড়িত বাকিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। খুব শীঘ্রই বাকিদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছেন সরাই রোহিল্লা থানার এক আধিকারিক।
