দুর্গাপুজো কাটতেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটে কারা প্রার্থী হবেন? কীভাবে নির্বাচনে লড়াই করবে বিজেপি, সেই নিয়ে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে দু’দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলের নেতৃত্বে আজ, শুক্রবার থেকে ওই বৈঠক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের লোকজন কি বিজেপির থেকে এবার টিকিট পাবেন? তৃণমূলের ‘দাগি’দের কি পদ্মচিহ্নে পুরভোটে লড়তে দেখা যাবে? সেই চর্চা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। তৃণমূলের ৪৪ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরকে কি টিকিট দেওয়া হবে? সেই নিয়ে এবার বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের অনেকেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সেই জল্পনা রয়েছে। তৃণমূল আমলে বহু কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ বহুতল নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। তাঁরাও পুরভোটে বিজেপিকে সমর্থন করবেন বলে জানানো হয়েছে। এনসিপিআই কি পুরভোটে প্রার্থী দেবে? সেই চর্চা চলছে। পুরসভা ভোটে তৃণমূলের ‘দাগি’রা কি বিজেপির হয়ে টিকিট পাবেন? দলের অন্দরেও দিন কয়েক ধরেই এই বিষয়ে চর্চা চলছে।
এদিন বৈঠক শেষে বেরিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের কোনও খবর আমার কাছে নেই। আমার কাছে খবর নেই, মানে দলের কাছেও খবর নেই। এই ধরনের কোথাও আবেদনপত্র বিজেপির কাছে আসেনি।”
এদিন বিজেপির কার্যালয়ে বৈঠকে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শমীক। বৈঠক শেষে বেরিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের কোনও খবর আমার কাছে নেই। আমার কাছে খবর নেই, মানে দলের কাছেও খবর নেই। এই ধরনের কোথাও আবেদনপত্র বিজেপির কাছে আসেনি।” শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও একবার কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কটাক্ষ, “তৃণমূল বলে কোনও দল নেই। বিজেপি একার শক্তিতে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়েছে। মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করেছে।”
তাঁর কথায়, “মানুষ জামা পরিবর্তন করার জন্য ভোট দেয়নি। বিজেপি ২০২১ সালের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তার উপরে ভিত্তি করেই ২০২৬-এর নির্বাচন লড়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে রাজ্য সরকার তৈরি হয়েছে। বিজেপি কারও দয়ায় আসেনি।”
তৃণমূলের লোকজনের বিজেপির টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন শমীক। তাঁর কথায়, “মানুষ জামা পরিবর্তন করার জন্য ভোট দেয়নি। বিজেপি ২০২১ সালের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েছে। তার উপরে ভিত্তি করেই ২০২৬-এর নির্বাচন লড়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে রাজ্য সরকার তৈরি হয়েছে। বিজেপি কারও দয়ায় আসেনি। বিজেপিকে মানুষ ভরসা করেছে সেই ভরসা আজও অটুট আছে।”
দিন ১৫-এর মধ্যেই বিজেপির তরফে পুরভোটের প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হবে। সেই জল্পনা বঙ্গ রাজনীতিতে ছড়িয়েছে। সেই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি শমীক। তাঁর কথায়, “প্রার্থী ক্রাইটেরিয়া কী হবে, সেটা বলব না।” তাঁর কথায়, “কলকাতার মানুষের আস্থা আছে। হাওড়ার মানুষেরও আমাদের প্রতি আস্থা আছে। আমরা দুটো কর্পোরেশনের আসন গড়ব।” তিনি জোরের সঙ্গেই বলেন, “প্রত্যেকটা নির্বাচনই রাজনৈতিক দলের কাছে চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন নির্বাচনের মধ্যে লড়ব। আপনারা ভালো মেয়র পাবেন। দেখতে সুন্দর হবে কিনা জানি না। ভালো হবে, কাজের মেয়র হবে।”
