অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে স্থানীয়রা সেতু ব্যবহার করতে পারছেন না। মৌলভীবাজারের রাজনগরের ইসলামপুর থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন। ২০২০ সালের জুলাইয়ে এই ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের লাঘাটা নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কথা ছিল পরের বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ হবে। অথচ এখন পর্যন্ত তা মানুষের যাতায়াতের উপযোগী হয়নি।
সেতুর অবকাঠামো তৈরি হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে ১২ গ্রামের অন্তত ১০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্ষার কারণে মাটির অভাবে সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া আইনি জটিলতার কারণে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজনগর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কামারচাক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধলাই ফেরিঘাট সড়কে যাওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে ২০২০ সালের ৬ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতুটি বানাতে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা। কাজ পায় ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেবি)। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। সেই মেয়াদও শেষ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। অথচ সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে তা স্থানীয়রা ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এমন অবস্থায় দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর, কালইকুনাসহ অন্তত ১২টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি ও মুমূর্ষু রোগীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
জানা গেছে, এলাকায় কৃষিপণ্য ও হাওরের মাছ বাজারে নেওয়া কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয়রা। প্রায় দ্বিগুণ খরচে কৃষিপণ্য ও মাছ বাজারে নিতে গিয়ে কৃষক, খামারি ও মৎস্যজীবীরা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় লাঘাটা নদী পার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
ইসলামপুর এলাকার শিক্ষার্থী সুমি আক্তার জানান, সেতুটি অসম্পূর্ণ থাকায় বর্ষাকালে নদী পারাপারে তাদের ঝুঁকি নিতে হয়। দ্রুত সেতুর অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করে নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
কৃষক সুলেমান মিয়া বলেন, ‘সেতু কার্যকর না থাকায় জমির ফসল নিয়ে নদী পার হতে অনেক সময় ও টাকা লাগে। বর্ষায় নৌকা বা বাঁশের সাঁকোই আমাদের ভরসা। দ্রুত সেতুর কাজ শেষ হলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।’
দক্ষিণ ইসলামপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে স্থানীয়দের সময় ও অর্থ দুটিরই ব্যয় হচ্ছে। তারা দ্রুত দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
প্রবীণ ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, ‘সেতুর কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম দ্রুতই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষ হবে। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর পার হলেও সেতুটি পুরোপুরি চালু হয়নি। এত টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করেও মানুষ যদি এর সুফল না পান, তাহলে বিষয়টি দুঃখজনক।’
এদিকে সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিন্স মামুন (জেভি)-এর স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এলজিইডির রাজনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি বলেন, ‘মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। তবে বর্ষার কারণে মাটি না পাওয়ায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণেও কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। বর্তমান অবস্থাতেই সংযোগ সড়ক বা অ্যাপ্রোচের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।’
