মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সংঘাতের অবসান হলেও এসব দেশের অর্থনীতি দ্রুত যুদ্ধ-পূর্ববর্তী প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে না বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক জিহাদ আজুর সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধের অভিঘাত বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং অর্থনীতির সহনশীলতা বাড়াতে দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে।
ফলে মধ্যমেয়াদেও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। এমন সময় এই সতর্কবার্তা এল, যখন সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরে সৌদি আরব ও ইয়েমেন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের প্রভাবে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনও ব্যাহত হয়েছে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবের মুখে থাকা মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের অর্থনীতি ২০২৬ সালে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হতে পারে সৌদি আরব।
দেশটির অর্থনীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। যুদ্ধের কারণে অবকাঠামোর ক্ষতি, জ্বালানি পরিবহনে বিঘœ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সংঘাত থেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সময় ও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি জ্বালানি উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে সমুদ্রপথে পরিবহন ব্যাহত হওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এসব দেশের আয়, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি শুধু চলমান সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর প্রভাব আগামী কয়েক বছরও অনুভূত হতে পারে।