উৎসবের আবহে মিলল খারাপ খবর। ২০২২ সালের পরে সবচেয়ে বড় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে নেটফ্লিক্স। জানা যাচ্ছে, প্রায় ৮৫০-এরও বেশি কর্মী চাকরি হারাবেন। নেটফ্লিক্সের ১৬ হাজার কর্মীদের মধ্যে ৬৮ শতাংশই রয়েছেন আমেরিকায়। ছাঁটাইয়ের ফলে চাকরি হারাবেন ৬ শতাংশ কর্মী। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’র রিপোর্ট থেকে এমনটাই জানা যাচ্ছে।
এদিকে জানা যাচ্ছে, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি আরও কর্মী ছাঁটাই হবে। সেই সময় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে পারে জনপ্রিয় এই ওটিটি মঞ্চ। কিন্তু হঠাৎ কেন ছাঁটাইয়ের এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নেটফ্লিক্স? সংস্থাটি তার প্রথাগত সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক ব্যবসার বাইরেও পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ব্লুমবার্গের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় সংস্থার অন্যতম সিইও সারান্ডোস স্বীকার করেন যে, সংস্থাটি প্রত্যাশিত গতিতে এগচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা যতটা দ্রুত বৃদ্ধি চাইছি, বাস্তবে ততটা দ্রুত এগোতে পারছি না। তবে এই গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করে চলেছি।”
তিনি যে খুব ভুল বলছেন না, তা সত্যি বলেই জানাচ্ছে পরিসংখ্যান। গত ৬ মাসে সংস্থাটির শেয়ার ৩০ শতাংশ পড়েছে। গত বছর থেকে দেখলে তা হ্রাস পেয়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। মনে করা হচ্ছে এহেন পরিস্থিতিতে তাই ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে নেটফ্লিক্স।
উল্লেখ্য, নেটফ্লিক্স নিয়ে সম্প্রতি আরেক বিতর্ক ঘনিয়েছিল। বলা হয়, নেটফ্লিক্স তার ইউজারদের উপরে নজরদারি চালায়। তাঁদের অনুমতি না নিয়েই হাতিয়ে নেয় ডেটা। এমনকী দায়ের হয় মামলাও। সত্যিই কি নেটফ্লিক্স এমন কিছু করে? অভিযোগে যে বলা হচ্ছে, নেটফ্লিক্স দেখার সময় নেটফ্লিক্সও সত্যিই নজরে রাখে ইউজারদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কথাটা আসলে আক্ষরিক অর্থে সত্যি নয়। বরং একে আলঙ্কারিক উক্তি হিসেবেই গণ্য করা যায়। মনে করা হচ্ছে, নেটফ্লিক্স সম্ভবত ইউজাররা যখন তাদের স্ট্রিমিং অ্যাপটি ব্যবহার করেন, তখন তাঁদের ব্যবহারের ধরন বা আচরণবিধিকেই পর্যবেক্ষণ করে থাকে।
