পর্যটনের দেশ থাইল্যান্ডের আতিথেয়তায় মুগ্ধ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। থাইল্যান্ডের আতিথেয়তা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভালো নীতি ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি দেশ কীভাবে জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, থাইল্যান্ড তার অনন্য দৃষ্টান্ত।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনের ষষ্ঠ দিনের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইএমএফের কমিউনিকেশনস বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাক।
থাইল্যান্ডের আতিথেয়তার প্রশংসা করে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজক হিসেবে থাইল্যান্ড অবিশ্বাস্য সাফল্য দেখিয়েছে। আমরা এমন এক সময়ে এখানে এসেছি, যখন বিশ্ব পরিস্থিতি বেশ জটিল।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘আমরা যে পরিবেশে মিলিত হই, তা গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। থাইল্যান্ডের উদার আতিথেয়তার সুফল ভোগ করছে পুরো বিশ্ব।’
থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে আইএমএফের এমডি বলেন, ৩৫ বছর আগে দেশটি প্রথমবারের মতো এই সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। তবে এবার যে থাইল্যান্ডে তারা এসেছেন, সেটি আগের থাইল্যান্ডের চেয়ে অনেক আলাদা।
তিনি বলেন, ‘দেশটি এখন গতিশীল, এর শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ও বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে এটি সমন্বিত। আমরা যেখানেই যাই, সেখানেই দেশটির প্রাণচাঞ্চল্য চোখে পড়ে।’
বিজ্ঞাপন
ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘ভালো নীতি ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশগুলো তাদের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, থাইল্যান্ড তার একটি দৃষ্টান্ত।’
থাইল্যান্ডের মানুষের আন্তরিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটি তাদের সামনে এমন এক সমাজের পরিচয় তুলে ধরেছে, যা সদয়, আন্তরিক ও সবাইকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানায়।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘এখানে আসা আমাদের অনেকের মনেই হয়তো কিছুটা অস্বস্তি ছিল। কিন্তু আপনারা আমাদের থাই আবহে অভ্যস্ত করে তুলেছেন।’
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে জর্জিয়েভা বলেন, দেশটির আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতাকে বিশেষ করে তুলেছে।
সম্মেলন আয়োজনের জন্য থাই কর্তৃপক্ষ, দেশটির জনগণ ও সামগ্রিক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আইএমএফের এমডি বলেন, তারা শুধু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও যত্নই নিশ্চিত করেননি, বরং তাদের একটি গানও উপহার দিয়েছেন। আগের রাতে তিনি ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে গানটি গাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
থাই জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের স্বাগত জানিয়েছেন, আপনাদের অসাধারণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এবং আপনাদের সুন্দর দেশের শ্রেষ্ঠ দিকগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।’
তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের প্রজ্ঞাও তারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুবিধা ও ইতিবাচক ফলাফল নিজে থেকে আসে না। বরং সেগুলোকে ধীরে ধীরে লালন করতে হয়, সঞ্চয় করতে হয় এবং সময়ের সঙ্গে আরও শক্তিশালী করতে হয়।’
জর্জিয়েভা বলেন, ‘আমাদের কাজ কখনো শেষ হয় না। এই উপলব্ধি নিয়েই আমরা দেশে ফিরে আমাদের মানুষকে অনুপ্রাণিত করব।’
বিজ্ঞাপন
এদিকে, সম্মেলনে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, বিশ্ব যখন বারবার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য অভিঘাত এবং ভূরাজনৈতিক বিভাজনের মুখোমুখি হচ্ছে, তখনো বহুপক্ষীয় সংলাপ ও সহযোগিতার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সেই আকাঙ্ক্ষা এখনো আছে।’ বিভিন্ন দেশের হাজারো প্রতিনিধিকে একত্র করে সংলাপের পরিবেশ তৈরিতে আইএমএফ ভূমিকা রাখতে পেরেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় সদস্য দেশগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তার কথাও তুলে ধরেন জর্জিয়েভা। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে ১০টি অংশীদার দেশের কাছ থেকে নতুন করে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। দেশগুলো হলো—ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, জাপান, কাজাখস্তান, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড।
তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর আহ্বানে সাড়া দিতে এই প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আইএমএফের নীতিগত পর্যালোচনার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সদস্য দেশগুলো এসব পর্যালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে। এর ফলে সংস্থাটির কাজ আরও সুনির্দিষ্ট ও ঝুঁকিভিত্তিক হচ্ছে, যা সম্ভাব্য দুর্বলতা আগেভাগে শনাক্ত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে সহায়তা করার সুযোগ বাড়াচ্ছে।
ইএইচটি/এসএনআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
