পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক আবু ইউসুফের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ছিলেন। মাদ্রাসাটিতে প্রায় দেড়শ ছাত্রী পড়াশোনা করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মা মাঠসংলগ্ন ওই মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হলে শিক্ষক ইউসুফ তাকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর তাঁকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। মাদ্রাসার আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলেও জানান ওই ছাত্রী। অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদ্রাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতীতে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগও তুলেছেন নিহত স্ত্রীর স্বজনেরা।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
যে আই
