Published on
:
2 min read
এই সময়, নয়াদিল্লি: উৎসবের আবহ জারি৷ শীর্ষ নেতা–নেত্রীরা প্রায় সকলেই পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মতো অনেকেই আবার বিদেশেও আছেন৷ এই আবহে বৃহস্পতিবার বাতিল হয়ে গেল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের ভার্চুয়াল বৈঠক! জোট সূত্রের দাবি, এই বৈঠকের মূল উদ্যোক্তা ছিল কংগ্রেস৷ জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব অধিকাংশই উপস্থিত থাকতে পারবেন না বুঝে ভার্চুয়াল বৈঠকটি বাতিলের কথা জানায় কংগ্রেস। কয়েক দিন পরেই বৈঠকটি ফের আয়োজিত হবে, দাবি কংগ্রেস সূত্রের৷ তবে সেই বৈঠক ভার্চুয়াল হবে কি না, সেই বিষয়ে কংগ্রেসের সূত্রে কিছুই খোলসা করা হয়নি৷
সূত্রের খবর, ১ নভেম্বর দিল্লিতে রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের প্রস্তাবিত জনসভা কর্মসূচি নিয়েও জোটের অন্দরে দ্বিমত তৈরি হয়েছে৷ জোট নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, উত্সবের আবহে এমন সমাবেশ করলে ঝুঁকির সম্ভাবনা বেশি৷ ৮ নভেম্বর দিওয়ালি৷ ৬ নভেম্বর দেশ জুড়ে পালিত হবে ধনতেরস৷ তার আগে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ করলে তার প্রভাব দিল্লির ব্যবসায়ী মহলে পড়তে পারে, বিরোধী শিবিরের কর্মসূচিকে হাতিয়ার করে তোপ দাগতে পারে শাসক শিবিরও৷ কংগ্রেস সমর্থিত কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের কর্তাব্যক্তিরা ইতিমধ্যেই তাঁদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন ‘হাত’ শিবিরের নেতাদের কাছে৷ এই মর্মেই ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের কয়েকটি সদস্য দল চাইছে রামলীলা ময়দানের সমাবেশ হোক দিওয়ালির পরে৷ এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে জোটের পরবর্তী বৈঠকেই৷
বিরোধী শিবিরের এই দোলাচলের মধ্যে বিজেপির আক্রমণ কিন্তু থেমে নেই! বৃহস্পতিবার বিরোধী শিবিরকে কার্যত তুলোধোনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তাঁর নিশানা থেকে বাদ যাননি বিদেশ সফরে (সূত্রের দাবি ভিয়েতনাম) থাকা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও৷ শাহের কথায়, ‘জানি আপনি বিদেশে কোথাও বসে আছেন। তার কারণও ব্যাখ্যা করছেন না। কিন্তু তাতে কী? এটা আপনার ব্যক্তিগত জীবন… তবে জেনে রাখুন, আগামী তিরিশ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবেন না। এমন কাউকে দেখিনি যে কি না প্রতি ছ’মাস অন্তর বিদেশে পাড়ি দেয়! আমি এখানে জন্মেছি, এখানে থাকি এবং এখানেই মৃত্যুবরণ করব।’ কংগ্রেস যে গত কয়েক দশক ধরে অধিকাংশ রাজ্যে ক্ষমতায় নেই, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘আপনারা ৫৪ বছর ধরে বাংলায় কোনও নির্বাচন জেতেননি… অরুণাচল প্রদেশে ১২ বছর ধরে এবং দিল্লিতে ১৮ বছর ধরে আপনারা নির্বাচিত হননি।’ মিডিয়ার একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও বলতে শোনা যায়, ‘কংগ্রেস একটা বাতিল প্রোডাক্টকে লঞ্চ করার চেষ্টা চালাচ্ছে! কংগ্রেসের মতো পরজীবী দল নিজেরাও এগোতে পারে না, অন্যদেরও আটকে দেয়। নিজেরা জিততে না পারলেই ওদের কাছে আঙুর ফল টক!’
একই সুরে তোপ দেগেছেন কেন্দ্রীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান–ও৷ তাঁর অভিযোগ, ‘রাহুল গান্ধী পার্ট টাইম পলিটিশিয়ান এবং ফুল টাইম ট্রাভেলার৷ সারা দেশ যখন নবরাত্রির উত্সব পালন করছে, উনি (রাহুল) বিদেশে চলে গিয়েছেন৷ আসলে রাহুল গান্ধী হলেন সমস্যা, উনি সমাধান নন৷ দেশ সমাধান চায়৷’ এই মর্মে নাম না করেই ককরোচ জনতা পার্টি এবং বাম সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলিকে শিবরাজের খোঁচা, ‘এখন একটা গ্যাং তৈরি হয়েছে, রেজিম চেঞ্জ গ্যাং৷ এরা বিভিন্ন স্বপ্ন দেখছে, যা কোনও দিন সফল হবে না৷’
