গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে এক গার্মেন্টসকর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের পর আসামিদের হুমকি ও সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়ার কারণে দুই দিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবার ঘরবন্দী হয়ে ছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে স্বজনদের সহায়তায় তারা থানায় এসে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী নারী (২০) শেরপুরের বাসিন্দা। তিনি শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের হানু মার্কেট এলাকায় ভাড়া থাকেন এবং স্থানীয় ডিবিএল গ্রুপের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর স্বামীও তাঁর সঙ্গে একই বাসায় থাকেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, গত ছয় মাস ধরে তাঁরা ওই এলাকার হারুন নামের এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া থাকেন। সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা বাসা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। গত সোমবার বাড়ির মালিক হারুন অর রশিদকে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করে মালামাল সরানোর কাজ শুরু করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় স্থানীয় দুই যুবক ফারুক ও নয়ন তাঁর বাসায় এসে স্বামীকে জোর করে ডেকে নিয়ে যান। অনেকক্ষণ পর সন্ধ্যার দিকে তাঁর স্বামী ফিরে আসেন। রাত সাড়ে ৮টার কিছুক্ষণ পর ফারুক ও নয়নের সঙ্গে অচেনা আরও দুজন তাঁদের ঘরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর স্বামীকে মারধর করে পাশের কক্ষে আটকে রাখেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ফারুক তাঁর স্বামীর কাছে টাকা পাওয়ার কথা বলে তাঁকে নিজেদের কথামতো চলতে বলেন। রাজি না হওয়ায় ফারুক, নয়ন ও তাঁদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তি তাঁর হাত বেঁধে ফেলেন। পরে গলায় ধারালো ছুরি ধরে দুই পা বেঁধে রেখে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন চারজন। এ সময় তিনি তাঁদের কাছে বারবার আকুতি জানালেও তাঁরা থামেননি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় আশপাশের কেউ তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেননি। ঘটনার পরও অভিযুক্তরা বাড়ির আশপাশে অবস্থান করায় ভয়ে তিনি থানায় যেতে পারেননি। পরে স্বজনদের খবর দিলে তাঁরা ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে থানায় যেতে সহযোগিতা করেন।
ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, তাঁকে পাশের কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁকে বলা হয়, তাঁর স্ত্রী টাকা আনতে গেছেন। অভিযুক্তরা একেকজন একেকবার এসে তাঁকে নির্যাতন করেন। পরে স্ত্রীর কাছে গিয়ে তাঁর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। বিচার চাইতে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভয়ে বের হতে না পেরে পরে আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় থানায় আসেন তাঁরা।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
