অক্টোবরের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জলবায়ু ও আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘এল নিনো—সাউদার্ন অসিলেশন ডায়াগনস্টিক ডিসকাশনের’ (ইএনএসও) তথ্যানুযায়ী, গত মাসে এল নিনোর তীব্রতা আরো বেড়েছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দিলরুবা মিতু গত তিনদিন সর্দি-কাশি ও জ্বরে ভুগছেন। ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব ভেবে প্রথমে গুরুত্ব না দিলেও নাসারন্ধ্র-কান বন্ধ থাকা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তিতে কাবু হয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তাকে জানানো হয়, কোল্ড ও ডাস্ট অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। মিতু জানান, অক্টোবরে এমন শুষ্ক বাতাস, রোদের ঝাঁঝালো তাপের সঙ্গে নানা জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজ চলায় উৎপন্ন হচ্ছে প্রচুর ধুলাবালি। তাই আমার মতো সংবেদনশীল মানুষের পক্ষে ঢাকায় বাস করা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।
শুধু মিতু নয়, তার মতো অনেকেই বর্তমানে ঠাণ্ডা-জ্বর, কাশি ও নানা উপসর্গে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও আবহাওয়া খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত ঋতু পরিবর্তনের সময় নতুন নতুন ফ্লুরও আগমন ঘটে। তবে প্রশান্ত মহাসাগরে উদ্ভূত শক্তিশালী ‘এল নিনো’ জলবায়ু পরিস্থিতির পরোক্ষ প্রভাবে বর্ষা-পরবর্তী হেমন্ত মৌসুমে বৃষ্টিহীনতা ও অস্বাভাবিক উত্তাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ অনাবৃষ্টি ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুমণ্ডলে আগাম ধূলিকণা বৃদ্ধি পাওয়া এবং ঢাকার ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাবের কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রলম্বিত শীত মৌসুমে ঢাকায় ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যালার্জি ও প্রাক-শীতকালীন শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাধারণ নিয়মে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বাতাসের মান সবচেয়ে বেশি খারাপ হওয়ার কথা থাকলেও এবার দীর্ঘ অনাবৃষ্টির কারণে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকেই বাতাসে প্রচুর পরিমাণে ধূলিকণা (ডাস্ট পার্টিক্যাল) বাড়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যে বাতাসের মানে গতকাল ঢাকার স্কোর ছিল ১৬২, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘অস্বাস্থ্যকর’। এর আগে গত ৬ অক্টোবর ঢাকার বায়ুমান সূচক রেকর্ড ২১৩ পর্যন্ত পৌঁছায়।
অক্টোবরের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জলবায়ু ও আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘এল নিনো—সাউদার্ন অসিলেশন ডায়াগনস্টিক ডিসকাশনের’ (ইএনএসও) তথ্যানুযায়ী, গত মাসে এল নিনোর তীব্রতা আরো বেড়েছে। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার বিচ্যুতি স্বাভাবিকের তুলনায় +৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে এল নিনো পর্যবেক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক নিনো-৩ দশমিক ৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার বিচ্যুতি বেড়ে +২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। অর্থাৎ ওই অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় ২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি, যা আরো শক্তিশালী হয়েছে এবং জানুয়ারি-মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশেরও বেশি। এনওএএ সতর্ক করেছে, ঘটনাটি ১৯৫০ সালের পর পর্যবেক্ষিত সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা আরআইএমইএসের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ খান মো. গোলাম রাব্বানী জানান, মূলত নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিক দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা ছাড়িয়ে ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি অতিক্রম করা একটি অতি শক্তিশালী বৈশ্বিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া। মিডিয়া বা সাধারণ ভাষায় একে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হচ্ছে।
এনওএএ-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সরাসরি ভৌগোলিক সংলগ্নতা না থাকলেও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সার্বিক আবহাওয়া বিশৃঙ্খলার অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও এর বড় ধরনের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বর্ষার শুরু থেকেই আবহাওয়ার আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। জুনে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়। জুলাইয়ে সার্বিক বৃষ্টিপাত ৩৫ শতাংশ বেশি হলেও তা ছিল অত্যন্ত ‘ইরাটিক’ বা চরম অনিয়মিত। ৫ থেকে ১২ জুলাই মাত্র এক সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে, যার পর মাসের বাকি দিনগুলো প্রায় অনাবৃষ্টি ছিল।
অন্যদিকে চলতি মাসের ১০ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে মনসুন বা মৌসুমি বায়ু বিদায় নেয়ার পর শুরু হয়েছে ‘পোস্ট-মনসুন’ বা হেমন্ত মৌসুম। তবে অক্টোবরজুড়ে দক্ষিণাঞ্চল এবং ঢাকা অঞ্চলে অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হয়েছে এবং অক্টোবরে স্বাভাবিকের চেয়ে গড় তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে শীতের আমেজ এলেও ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ৩৬ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ঘনবসতিপূর্ণ বহুতল ভবন, অতিরিক্ত যানবাহন ও গাছপালার ঘাটতির পাশাপাশি উচ্চ মাত্রার কার্বন ডাই-অক্সাইডের কারণে ঢাকা শহর একটি ‘গ্রিনহাউজ’-এর মতো আচরণ করছে। ফলে ঢাকার রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গ্রাম বা প্রান্তিক অঞ্চলের চেয়ে বেশি থাকছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদের মতে, বিশ্ব আবহাওয়াকে ডমিনেট করা এল নিনো সরাসরি না হলেও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা তৈরি করছে, যার প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের ওপরও এসে পড়ে। এবারের এল নিনো জুন থেকে ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে এবং শীর্ষ অবস্থায় যাওয়ার আগেই এর প্রভাব দৃশ্যমান।
বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এল নিনোর শক্তি ও প্রভাব শীত পার হয়ে আগামী গ্রীষ্ম পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। সামনের গ্রীষ্মেও হিটওয়েভ বড় ধরনের এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। এবার বৃষ্টি কম হবে এবং বৃষ্টিপাত হবে ‘ইরাটিক‘ বা অসম। যার একটি চিত্র জুন-জুলাইয়ে আমরা দেখেছি। জুলাইয়ের অতিরিক্ত বৃষ্টির বড় অংশই হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহে, বাকি ২১ দিন প্রায় বৃষ্টিহীন ছিল। ফলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমবণ্টিত বর্ষার পরিবর্তে দেখা গেছে থেমে থেমে অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘ শুষ্ক বিরতির প্রবণতা।’
বর্ষার এ অস্বাভাবিক আচরণ শুধু জলবায়ুগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, এটি নগরজীবনের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মহানগরে একদিকে হঠাৎ জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের কারণে ধুলাদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার গত মাসেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল বলে মত দিয়েছেন ড. রশিদসহ আরো একাধিক বিশেষজ্ঞ।
বায়ুদূষণ নিয়ে ড. বজলুর রশিদ বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, ‘বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জানুয়ারির আগে বাতাসে ভাসমান কণা ধুয়ে যাওয়ার সুযোগ কমছে। ঢাকার মতো এরই মধ্যে দূষণে আক্রান্ত শহরে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি হুমকি তৈরি করতে পারে।’
আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের যৌথ পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর ধূলিকণা ও রাসায়নিক কণা ধুয়ে যাওয়ার মতো কোনো বৃষ্টি না থাকায় নগরবাসীর ফুসফুস ও শ্বাসনালিতে অ্যালার্জিক্যাল ইনফেকশন, সাইনোসাইটিস ও সিজনাল ভাইরাসের আক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এদিকে বর্ষা শেষ হলেও থেমে থেমে বৃষ্টি এবং বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ও ডেঙ্গু রোগের মেয়াদ কমতে আরো বিলম্ব হবে।
জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং এপিডেমিওলজিস্ট ড. মো. ইকবাল কবীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি বছরের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে এটি একটি সুপার এল নিনো ইয়ার। অনাবৃষ্টি ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার মাত্রা বহু গুণ বেড়েছে। এছাড়া আমাদের শহরগুলোর পরিবেশগত অবস্থা আগে থেকেই নাজুক। গতবছরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের বায়ুদূষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনেই বাতাসের পিএম ২ দশমিক ৫ এবং পিএম ১০ বা ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।’
‘সুপার এল নিনো’র প্রভাবে ঢাকার বায়ুদূষণ বৃদ্ধি, ফ্লু ভাইরাসের রূপান্তর ও অন্যান্য ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফ্লু-ভাইরাস প্রতিনিয়তই স্ট্রেন পরিবর্তন করে নিজের খোলস পাল্টায়। এবারের ভাইরাসটি কিছুটা ডিফিকাল্ট—জ্বর ও কাশির পর এটি খুব দ্রুত নিউমোনিয়ায় রূপ নিয়ে ফুসফুসকে আক্রান্ত করছে। অন্যান্য সময় ফ্লু হলে এক সপ্তাহে ভালো হয়ে যেত। কিন্তু এবারের বিশেষত্ব হচ্ছে—রোগের দ্বিতীয় ধাপে গিয়ে ফুসফুস সংক্রমিত হয়ে পড়ছে এবং অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হচ্ছে।’
ফুসফুসের জটিলতা ও শ্বাসকষ্টের বিশদ বর্ণনা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, এবারের ফ্লু ভাইরাস বা ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, আক্রান্ত রোগীদের শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে যায় এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সেখান থেকে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া ডেভেলপ করে।
হাঁপানি ও অ্যাজমা রোগীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের এবার বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। বাতাসে ধূলিকণা ও ভাইরাসের প্রভাবে ‘স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাস’ অর্থাৎ হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এটি একটি মেডিকেল ইমারজেন্সি এবং দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার প্রয়োজন পড়ে।
দেশের বর্তমান স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে ড. ইকবাল কবীর আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা এমনিতেই ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে এত বাজে অবস্থার মধ্যে আছি যে ফ্লু নিয়ে আলাদা চিন্তা করার সময় পাওয়া যাচ্ছে না। তবে বায়ুদূষণ, অনাবৃষ্টি ও এল নিনোর প্রভাবে এবার এ ফ্লু ও ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বহু গুণ বাড়ার স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।’
শীতকালে ফ্লু ও ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়া নিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং ভাইরোলজি (ভাইরাসবিদ্যা) বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আহমেদ নওশের আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে, ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মূল সংক্রমণকাল বা পিক সিজন হলো জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। অক্টোবর শেষ হয়ে আসার কারণে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বরঞ্চ স্বাভাবিক নিয়মেই কমার কথা। তবে শীতকালে পার্টিকুলারলি ফ্লু না বাড়লেও শিশুদের ক্ষেত্রে অন্যান্য ভাইরাস, যেমন—রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস ও এডিনোভাইরাসের সংক্রমণ এবং শীতকালীন সাধারণ সর্দি-জ্বর বাড়তে পারে।’
