প্রথম দুই ম্যাচে হার। শেষ ম্যাচেও শুরুতেই গোল হজম। ফর্টিস এফসির এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ অভিযানটা তখন আরেকটি হতাশায় শেষ হওয়ার পথেই। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশের ক্লাবটি। দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে তাজিকিস্তানের এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিদায়টা জয়ে রাঙাল ফর্টিস।
শুক্রবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের ২০২৬–২৭ মৌসুমে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে এই জয় পেয়েছে ফর্টিস। প্রথম দুই ম্যাচে আল-কাদসিয়ার কাছে ৩-০ ও এফসি গোয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা। শেষ পর্যন্ত ফর্টিস ও রেগার-তাদাজ, দুই দলই তিন পয়েন্ট নিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল তাজিক ক্লাবটির পক্ষে। ১২ মিনিটে এনদোঙ্গো ফোয়ের বুদ্ধিদীপ্ত ফ্লিকে ডান দিকে বল পান শেরজোদ মাখামাদিয়েভ। মনির আলমকে কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে ফর্টিস গোলরক্ষক সুজন পেরেরাকে পরাস্ত করেন তিনি।
তবে পাঁচ মিনিট পরই বড় ধাক্কা খায় রেগার-তাদাজ। মার্টিন আকো আসোমোর দুর্বল ব্যাকপাস ধরে এগিয়ে যান ফর্টিসের জাপানি ফরোয়ার্ড নোরিকি আকাদা। বক্সের বাইরে তাকে ফেলে দেন গোলরক্ষক সেভেরিন তাকাম। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ম্যাচের বাকি দীর্ঘ সময় দশজন নিয়ে খেলতে হয় তাজিক ক্লাবটিকে।
বদলি গোলরক্ষক শাখোবিদ্ধিন মাখমুদজোদাকে নেমেই পরীক্ষায় পড়তে হয়। পা ওমরের বাঁকানো ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে দেন তিনি। একজন বেশি থাকার সুবিধা নিয়ে ফর্টিসও প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ বাড়াতে থাকে। কিন্তু সুযোগ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারছিল না।
৩৫ মিনিটে সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেন আকাদা। বক্সের মধ্যে বুক দিয়ে বল নামিয়ে তাকে সুযোগ তৈরি করে দেন ওমর। কিন্তু আকাদার শট উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফর্টিস।
দ্বিতীয়ার্ধে দশজনের রেগার-তাদাজ শুধু রক্ষণ আগলে বসে থাকেনি। আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টাও করেছে তারা। তাতে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে অবশেষে ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে ফর্টিস।
শুকিকে ঠেকাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মাখমুদজোদা। কিন্তু বল চলে যায় ওমরের কাছে। তিনি দূরের পোস্টে থাকা রাফায়েল টুডুকে বল বাড়িয়ে দেন। দারুণ এক ব্যাকহিলে জাল খুঁজে নিয়ে স্কোর ১-১ করেন টুডু।
সমতার স্বস্তি জয়ের সম্ভাবনায় বদলে যায় মাত্র চার মিনিট পরই। মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ক্রস থেকে অনন্ত তামাং হেডে বল দেন শিয়ান কাওয়াসাকির দিকে। জোরালো ভলিতে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ফর্টিসকে এগিয়ে দেন এই জাপানি ফুটবলার।
এরপর ব্যবধান ধরে রাখার পাশাপাশি আরেকটি গোলও আদায় করে নেয় মোহাম্মদ মাসুদের দল। ৮৮ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করেন ওমর। তাঁর পাস থেকে পায়ের ভেতরের অংশ দিয়ে বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান শুকি। তাতেই নিশ্চিত হয় ফর্টিসের ৩-১ ব্যবধানের জয়।
