প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে অল্প সময়ের মধ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) জন্য ছিল বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে সমন্বিত পরিকল্পনা, গোয়েন্দা নজরদারি, বিশেষায়িত ইউনিটের সক্রিয়তা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করেছে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিদর্শন ছিল তার সফরের অন্যতম কর্মসূচি।
সফরের প্রস্তুতির জন্য সময় সীমিত থাকায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হয়।
এদিকে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিভিন্ন আয়োজন ঘিরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ব্যস্ততা ছিল। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করে আরএমপি।
সফরস্থলগুলোর নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিআরটিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে। তার পরিদর্শনের নির্ধারিত স্থানগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চলাচলের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়।
নিরাপত্তার পাশাপাশি নগরীর সড়কে যানজট কমানো এবং সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতেও তৎপর ছিল আরএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বিত উদ্যোগে অল্প সময়ের মধ্যে সফরকেন্দ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আরএমপির মিডিয়া মুখপাত্র গাজীউর রহমান বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা দিয়েছি।
আমাদের প্রত্যেক পুলিশ সদস্য প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে আমরা আলহামদুলিল্লাহ সফল হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা এবং নগরীর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার মতো একাধিক দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে হয়েছে আরএমপিকে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সমন্বিত প্রস্তুতি ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতার মাধ্যমে সফর নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।
বিআলো/আমিনা