আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় দলের টপ অর্ডারে ব্যাটসম্যানদের ভিড়। সেই কারণেই নিজের পছন্দের তিন নম্বর পজিশন ছেড়ে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে হচ্ছে তিলক ভার্মাকে। তবে ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই ভারতীয় দলের এই তারকার। তাঁর কাছে দলের স্বার্থই সবার আগে। যে পজিশনেই সুযোগ আসুক, দেশের হয়ে ম্যাচ জেতানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হওয়ার পর সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিলক। আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তিন নম্বরে ব্যাট করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভারতীয় দলের বর্তমান কম্বিনেশনের কারণে এখন তাঁকে নিচের দিকে ব্যাট করতে হচ্ছে। নতুন ভূমিকায় মানিয়ে নিতে প্রথম দিকে কিছুটা সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে সেই চ্যালেঞ্জ সামলে উঠেছেন তিলক।
চাপের মুখে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে ইতিমধ্যেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। এশিয়া কাপ ২০২৫-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের জয়ে অবদান রেখেছেন তিনি। এবার ফিনিশারের ভূমিকাতেও নিজেকে আরও কার্যকর করে তুলতে চান তিলক।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “তিন নম্বর থেকে ছ'নম্বরে ব্যাটিংয়ে মানিয়ে নেওয়া খুব একটা সহজ নয়। তবে দেশের হয়ে ম্যাচ শেষ করে আসতে আমার ভাল লাগে। তিন নম্বরে ব্যাট করলে ম্যাচ শেষ করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু টপ অর্ডারে আমাদের দলের নির্দিষ্ট কম্বিনেশন রয়েছে এবং তারা ভাল খেলছে। আমি ফিনিশারের ভূমিকা পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই এই ভূমিকায় ব্যাট করে কয়েকটি ম্যাচ জিতিয়েছি।”
নিজের ব্যাটিং দক্ষতা নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী তিলক। তাঁর দাবি, তিন নম্বর হোক বা পাঁচ নম্বর, দলের প্রয়োজনে যে কোনও পজিশনেই ব্যাট করতে প্রস্তুত তিনি। তিলকের কথায়, “মাঠের সব দিকে শট খেলার ক্ষমতা আমার রয়েছে। তিন নম্বর এবং ছ' নম্বর, দুই পজিশনেই ব্যাট করার মতো টেকনিক আমার আছে। আমি পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি এবং দলের জন্য যে কোনও ভূমিকায় পারফর্ম করতে পারব। আমার কাছে এটা এক দিনের অনুশীলনের বিষয়।”
এদিকে ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দলে প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই ক্রমশ কঠিন হচ্ছে। অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষান, শ্রেয়স আইয়ার, বৈভব সূর্যবংশী এবং তিলক ভার্মার মতো ক্রিকেটারদের নিয়ে টপ অর্ডারে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা। আপাতত অভিষেক, সঞ্জু এবং ঈশানকে নিয়ে টপ অর্ডার সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। চার নম্বরে ব্যাট করছেন অধিনায়ক।
তার উপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে নীতীশ রেড্ডি, নমন ধীর এবং শিবম দুবের মতো ক্রিকেটারদের খেলানোয় দলের ব্যাটিং আরও গভীর হয়েছে। ফলে অধিকাংশ ম্যাচেই ২০০-র বেশি রান তুলতে পেরেছে ভারত। তবে অতিরিক্ত ব্যাটিং বিকল্পের কারণে বিশেষজ্ঞ বোলারের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
সিরিজের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে নমন ধীরের বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন তিলক। এই সিরিজে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন নমন। তিলকের মতে, চাপের মুখে ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে নমনের অফস্পিন কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
তিলক বলেন, “প্রতিটি ম্যাচে ২০০-র বেশি রান করা দলের জন্য খুব ভাল লক্ষ্মণ। নমন ধীরের বোলিংও বড় ইতিবাচক দিক। চাপের মুখে একজন অফস্পিনার ডান হাতি ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে বল করে উইকেট তুলে নিচ্ছে, এটা দলের জন্য ভালো খবর।”
