নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
এশিয়ান গেমস শেষ করে বাংলাদেশ দলের দেশে ফেরার সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই দেশের শীর্ষ ক্রীড়া সংস্থা বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) বড় ধাক্কা লেগেছে। গেমসে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির চুলচেরা বিশ্লেষণের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন বিওএর সহসভাপতি সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং দুই নির্বাহী সদস্য—সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির ও হাবিবুর রহমান জামিল।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর চার বছর মেয়াদের বর্তমান নির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছিল। এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই শীর্ষ পর্যায়ের তিন কর্মকর্তার একসঙ্গে সরে দাঁড়ানোকে ক্রীড়াঙ্গনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা পদাধিকারবলে বিওএর সহসভাপতি ছিলেন।
ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য ও জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালী সাব্বির পদত্যাগের কারণ হিসেবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেছেন।
চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিওএ মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা বলেন, ‘শূন্য হওয়া পদগুলোর বিষয়ে গঠনতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) নির্দেশনা মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। সরকার পরিবর্তনের পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিভিন্ন ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে রদবদল করলেও বিওএ এবং বাফুফের ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কারণ হিসেবে রয়েছে আইওসি ও ফিফার কঠোর স্বায়ত্তশাসন নীতি। যেখানে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিললে সরাসরি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরাসরি অ্যাডহক কমিটি চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও শীর্ষ পদগুলোতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের মাধ্যমেই পরিবর্তনের পথ তৈরি হচ্ছে।

