মানুষ সামাজিক জীব। একে অপরের সঙ্গে মেলবন্ধন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে সমাজ। তবে একটি সমাজ কেবল সুন্দর দালানকোঠা বা আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে না; এর প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত থাকে মানুষের আচার-ব্যবহার, নৈতিকতা ও চরিত্রে। আর এই নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের অন্যতম ভিত্তি হলো শালীনতা।
শালীনতা মানুষের চরিত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, কথাবার্তা ও আচরণের এমন এক শোভন প্রকাশ, যা ব্যক্তি ও সমাজকে কুরুচিপূর্ণতা, অশ্লীলতা এবং বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করে। একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে শালীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ইসলাম মানুষকে মার্জিত, রুচিশীল, নম্র-ভদ্র ও শালীন হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ শালীনতা ও নম্রতার শিক্ষা দিয়েছেন। হজরত লোকমান (আ.) তার পুত্রকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন, অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে চলাফেরা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদ্ধত ও অহংকারী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। (সুরা লোকমান, ১৮)
শালীনতার অন্যতম ভিত্তি হলো লজ্জাশীলতা। লজ্জাশীলতা মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং উত্তম চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমার যদি লজ্জাই না থাকে, তবে তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারো। (বুখারি, ৩৪৮৩)। তিনি আরও বলেছেন, লজ্জাশীলতা পুরোটাই কল্যাণময়। (মুসলিম, ৩৭)। অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা। (নাসাঈ, ৫০০৫)।
শালীনতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মার্জিত ও রুচিশীল পোশাক-পরিচ্ছদ। ইসলাম মানুষকে এমন পোশাক পরিধানের নির্দেশ দিয়েছে, যা দেহ আবৃত রাখে এবং ব্যক্তিত্বকে মর্যাদাবান করে। শালীন জীবনাচরণ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে অশোভন আচরণ ও অশালীনতা মানুষে মানুষে দূরত্ব সৃষ্টি করে এবং নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটায়।
শালীনতার চর্চা শুরু হয় পরিবার থেকে। মাতা-পিতা ও অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো ছোটবেলা থেকেই সন্তানদের মার্জিত পোশাক পরিধান, ভদ্রভাবে কথা বলা, বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নীতি-নৈতিকতা ও শিষ্টাচার গঠনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বাস্তব জীবনের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতেও শালীনতা বজায় রাখা অপরিহার্য। কারণ একজন মুমিনের চরিত্র কেবল বাস্তব জীবনে নয়, তার অনলাইন আচরণেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
লেখক: সহকারী শিক্ষক
নাদির হোসেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
