শাহ বিলিয়া জুলফিকার

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহানের দ্বিতীয় বিজেএস ছিল ১৮তম। প্রথমবার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি প্রস্তুতির কৌশল বদলান, নতুন উদ্যমে শুরু করেন পথচলা। তাঁর প্রস্তুতি, লিখিত ও ভাইভার অভিজ্ঞতা, আইন পড়তে আসার গল্প, অনুপ্রেরণা, নতুনদের জন্য পরামর্শ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।
১৭তম বিজেএস ছিল তাঁর প্রথম পরীক্ষা। তখন বেয়ার অ্যাক্টের চেয়ে আইনপাঠ বেশি পড়তেন। ফলে দেওয়ানি কার্যবিধি ও ফৌজদারি কার্যবিধি বুঝতে সমস্যায় পড়েন। ব্যর্থতার পর সংবিধান ও পারিবারিক আইন ছাড়া বাকি সব বিষয়ে বেয়ার অ্যাক্টকে করেন মূল ভিত্তি।
১৮তম বিজেএসের সার্কুলারের আগে হাতে সময় ছিল। তাই বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা না করে প্রতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে সব বিষয় শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করেন। বাকি পাঁচ দিন রাখতেন অসম্পূর্ণ অংশ শেষ করার জন্য।
সংবিধানের জন্য পড়তেন মূল সংবিধান, আব্দুল হালিমের বই ও ‘সহজ ভাবনায় সংবিধান’। প্রয়োজনমতো দেখতেন জসীম আলী চৌধুরী ও মাহমুদুল ইসলামের বই। মুসলিম আইনে ফয়েজ উদ্দিন ও ডি এফ মুল্লা, হিন্দু আইনে আজিজুল হক এবং উত্তরাধিকার আইনে ইকরাম স্যারের বই অনুসরণ করতেন। বুঝতে অসুবিধা হলে নিতেন আইনপাঠের সহায়তা।
প্রিলির আগে অংশ নিতেন Live MCQ এবং সিভিল জজ রাগীব মোস্তফা নাইম ও সাদিকুর রহমান রোমানের আয়োজিত পরীক্ষায়। ভালো নম্বর আত্মবিশ্বাস বাড়াত। কোথাও ক্লাস করেননি, শুধু পরীক্ষা দিয়েছেন। সাধারণ জ্ঞানে বাংলা, ইংরেজি সাহিত্য ও বিজ্ঞানে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
লিখিতের প্রস্তুতি
আয়েশা সিদ্দিকা ইমার বই ও রিটেন মাস্টার পড়ে প্রশ্নের ধরন এবং প্রশ্ন আসার জায়গা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান। এরপর সেভাবেই প্রস্তুতি নেন।
আলাদা নোট করার অভ্যাস ছিল না। তাই বেয়ার অ্যাক্টে ধারার পাশে ছোট ছোট পয়েন্ট লিখে রাখতেন। প্রাসঙ্গিক মামলা পেলে তা-ও লিখতেন সংশ্লিষ্ট ধারার পাশে। প্রিলির বইগুলোই পড়েছেন, শুধু বাদ দিয়েছেন আইনপাঠ। প্রিলির সময় আইনগুলো হালকাভাবে পড়লেও লিখিতে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো ভালোভাবে আয়ত্তে আনেন। দিনভর পড়তেন আইন, রাতে সাধারণ বিষয়।
ভাইভার প্রস্তুতি
প্রথমবার লিখিত দিয়েই তাঁর বিশ্বাস ছিল, সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার মতো পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে লিখিতের পর ভাইভার প্রস্তুতিতে মন বসত না। তবু সব আইনের বেয়ার অ্যাক্ট আরেকবার দেখেছেন। ‘ভাইভা বুস্টার’ বইটি প্রি-অর্ডার করেন, হাতে পান ভাইভার কয়েক দিন আগে। প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা পড়ার সময় নিজেকে তাঁদের জায়গায় কল্পনা করতেন, যেন সত্যিই বোর্ডে বসে উত্তর দিচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে বিজেএস কমিশনের ওয়েবসাইটে সদস্যদের ছবি দেখতেন, যাতে বোর্ডে সামনে পড়লে মুখগুলো পরিচিত লাগে। মুখস্থ করেছিলেন তাঁদের নামও।
‘অর্ডার অর্ডার’ থেকে স্বপ্ন
ছোটবেলায় টিভিতে বিচারককে ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে বিচার করতে দেখে ভাবতেন, তিনিও যদি এমন বলতে পারতেন! তখন জানতেন না, কীভাবে জজ হতে হয়। ধীরে ধীরে এই স্বপ্ন পরিবারের স্বপ্ন হয়ে ওঠে। বাবা-মা ও ভাই-বোনের স্বপ্নপূরণে জজ হওয়াই হয়ে দাঁড়ায় তাঁর অঙ্গীকার।

