সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ৮৪ বছর বয়সী আব্দুল মান্নানকে বসতঘর থেকে তুলে নিয়ে মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করার অভিযোগ উঠেছে তারই কয়েক সন্তানের বিরুদ্ধে। জমি রেজিস্ট্রির নির্ধারিত তারিখের আগের রাতে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার কনিষ্ঠ ছেলে জাহের আলম। এ ঘটনায় তিনি দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে বাবাকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন বড় ছেলে মকসুদ আলম।
জাহের আলম জানান, তার বাবা চার ছেলে ও চার মেয়ের জনক। দীর্ঘদিন ধরে বাবার ভরণপোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। বাবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে তার নামে থাকা কিছু জমি বিক্রির উদ্যোগ নেয়া হলে পরিবারের কয়েকজন সদস্য আপত্তি জানান। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। জাহের আলমের দাবি, তার বাবা কিছু জমি বিক্রির জন্য বায়না গ্রহণ করেছিলেন। ৩০শে সেপ্টেম্বর দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ নির্ধারিত ছিল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু ২৯শে সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একদল লোক তাদের বসতঘর থেকে আব্দুল মান্নানকে জোর করে নিয়ে যায়। এর আগে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তার বাবা থানায় লিখিত আবেদন করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
জাহের আলমের অভিযোগ, তার বড় ভাই মকসুদ আলমের পরিকল্পনায় বোন মঞ্জু আরা, রানু, মিনু ও চামেলী বেগম এবং প্রবাসী দুই ভাই মঞ্জুর আলম ও মুহিত আলমের যোগসাজশে বাবাকে সিলেটের ‘এইম ইন লাইফ’ মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য বাবার সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নেয়া বলে দাবি তার। তবে মকসুদ আলম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বাবা ও ভাই জাহের আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের কারণে তাদের বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সদস্য ও তাদের মা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে বাবাকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মূলত জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বলে মনে হচ্ছে। তবে আব্দুল মান্নানকে তার কয়েক সন্তান মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছেন এবং সেখানে ডোপ টেস্টের ফল পজিটিভ এসেছে বলে তদন্তে নিশ্চিত হয়েছেন তারা। এ কারণে জাহের আলমের করা অপহরণ মামলাটি নেয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। জাহের আলম বাবাকে উদ্ধার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
